মাইক্রোসফটের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ সেভেন উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের মাঝে বেশ সারা জাগিয়েছে। উইন্ডোজ ভিস্তার ব্যর্থতার পর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সেভেনকে জনপ্রিয় করে তুলতে সর্বাধিক চেষ্টাটাই করেছে এবং এর ফলাফল হয়তো আপনাদের জানাই, অনেকেই উইন্ডোজ সেভেনকে মাইক্রোসফট এর এযাবৎকালের সেরা অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নতুন সব চমক আর অত্যাধুনিক কিছু বৈশিষ্ট্যের কারনেই উইন্ডোজ সেভেনের এই জনপ্রিয়তা। উইন্ডোজ সেভেনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল এটাতে শুধুমাত্র মাউস বা কীবোর্ডের সাহায্যেই পুরো কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করার সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মাউস বা কীবোর্ড নষ্ট হয়ে গেলেও আপনি কোন সমস্যা ছাড়াই যে কোন একটি দিয়েই কাজ চালাতে পারবেন।

তবে পূর্বের অপারেটিং সিস্টেমগুলো থেকে সম্পূর্ন নতুন এবং আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত হওয়ার কারণে অনেকেই হয়তো সেসব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত নন। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক উইন্ডোজ সেভেনের ১০টি টিপস।

_

১. বাড়িয়ে নিন টাস্কবার Thumbnails এর গতি


উইন্ডোজ সেভেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর চমৎকার টাস্কবার এবং এর Thumbnails. যেকোন উইন্ডোর প্রিভিউ এখন এখান থেকেই দেখে নিতে পারেন। কিন্তু Thumbnail এর গতি কিছুটা কম হওয়ার সময়ের অপচয় ঘটে। তবে আপনি চাইলেই এর গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন। এজন্য Start মেনুতে যেয়ে regedit লিখে Registry Editor-এ প্রবেশ করুন। সেখান থেকে HKEY_CURRENT_USER\Control Panel\Mouse এ যান। এবার MouseHoverTime এ ডাবল ক্লিক করুন। সেখানে এর ভ্যালু 400 দেয়া রয়েছে অর্থাৎ কোন নির্দেশ পাওয়ার পর তা ৪০০ মিলিসেকেন্ড অপেক্ষা করবে। আপনি সেটা কমিয়ে আনলেই তা আরো দ্রুত কাজ করবে। সবোর্চ্চ গতি পেতে ভ্যালু 0 করে দিন। কিন্তু সেক্ষেত্রে ভিজুয়াল ইফেক্ট আর দেখতে পারবেন না। তাই আমার মতে ভ্যালুটি 100 করে দেয়াই ভাল। কারন 100 করে দিলে ভিজুয়াল ইফেক্টও দেখার পাশাপাশি দ্রুত গতিতেও কাজ করবে।

_

২. মাউস ছাড়াই দেখুন টাস্কবার Thumbnail

সাধারণত টাস্কবারের উপর মাউস রাখলেই Thumbnail দেখা যায়। কিন্তু মাউস না থাকলে বা মাউসে কোন সমস্যা হলে মাউস ছাড়াই তা দেখে নিতে পারেন। এজন্য উইন্ডোজ কী চেপে ধরে T চাপুন। পরবর্তি Thumbnail দেখতে আবার T চাপুন। এভাবে টাস্কবার ছাড়াই দেখে নিতে পারেন যে কোন চলন্ত উইন্ডো বা অ্যাপ্লিকেশনের  Thumbnail.

_

৩. মাউস ছাড়াই চালু করুন টাস্কবারের অ্যাপ্লিকেশন


টাস্কবারে থাকা অ্যাপ্লিকেশনগুলো আমরা সাধারণত মাউসের সাহায্যেই ওপেন করে থাকি। তবে শুধুমাত্র কীবোর্ডের সাহায্যেই আপনি অ্যাপ্লিকেশনগুলো চালু করতে পারেন। এজন্য উইন্ডোজ কী টি চেপে ধরে টাস্কবারে অবস্থানরত আপনার অ্যাপ্লিকেশনটির নম্বর অর্থাৎ 1,2,3,4 বা যে নম্বরে অ্যাপ্লিকেশনটি আছে সেটা চাপুন। ছবিতে দেখছেন মজিলা ফায়ারফক্সের অবস্থান ৪-এ। সেক্ষেত্রে উইন্ডোজ কী চেপে ধরে 4 চাপলেই ফায়ারফক্স চালু হয়ে যাবে।

_

৪. টাস্কবার এক্সপ্লোরারে যুক্ত করুন যে কোন ফোল্ডার


যারা উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করেছেন তাদের সবাই-ই হয়তো টাস্কবারে এক্সপ্লোরার আইকনটি লক্ষ্য করেছেন। এক্সপ্লোরার আইকনে ক্লিক করলে সেটা সরাসরি উইন্ডোজ লাইব্রেরিতে নিয়ে যায়। তবে আপনি যদি উইন্ডোজ লাইব্রেরিতে আপনার ফাইল সংরক্ষণ না করে অন্য কোন স্থানে করেন তাহলে এক্সপ্লোরার আইকনের মাধ্যমেই সরাসরি সেই ফোল্ডারে যেতে পারেন। এজন্য এক্সপ্লোরার আইকনটিতে যেয়ে মাউসের ডান বাটনে ক্লিক করে আবার Windows Explorer এর  ডান বাটনে ক্লিক করুন এবং Properties এ যান। এবার শর্টকাট ট্যাব এর টার্গেট এ যেয়ে %windir%\explorer.exe লেখাটির শেষে একটা স্পেস দিয়ে আপনার পছন্দের ড্রাইভ বা ফোল্ডারের ঠিকানা লিখুন অর্থাৎ আপনি যদি এক্সপ্লোরারে ক্লিক করে সরাসরি C ড্রাইভে যেতে চান তাহলে লিখুন %windir%\explorer.exe c:

আবার আপনি যদি C ড্রাইভে থাকা কোন ফোল্ডারে যেতে চান তাহলে লিখুন %windir%\explorer.exe c:\folder name অর্থাৎ ফোল্ডার এর নাম এর জায়গায় আপনার পছন্দের ফোল্ডারটির নাম লিখুন এবং Ok দিয়ে এক্সপ্লোরার আইকনে ক্লিক করে দেখুন সরাসরি আপনার কাঙ্খিত ফোল্ডার বা ড্রাইভে চলে গেছে। এভাবে আপনি যে কোন ড্রাইভ বা যেকোন ফোল্ডারকে এক্সপ্লোরার এর ডিফল্ট লোকেশন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনি চাইলে কম্পিউটার বা মাই ডকুমেন্টসও যুক্ত করতে পারেন। এজন্য নিচের ঠিকানাগুলো লিখুন:

কম্পিউটার: %windir%\explorer.exe ::{20D04FE0-3AEA-1069-A2D8-08002B30309D}

মাই ডকুমেন্টস: %windir%\explorer.exe ::{450D8FBA-AD25-11D0-98A8-0800361B1103}

_

৫. মূহুর্তেই মিনিমাইজ করুন সকল উইন্ডো

আমরা অনেকেই একসাথে অনেকগুলো উইন্ডো ওপেন করে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু যখন কাজের অনেক চাপ থাকে এবং হাতে সময় খুবই কম থাকে তখন একটা একটা করে সকল উইন্ডো মিনিমাইজ করতে সময়ের অপচয় হয়। কিন্তু এখন উইন্ডোজ সেভেনে আপনি চাইলে যে উইন্ডোতে কাজ করছেন সেটা ছাড়া সকল উইন্ডো কোন ঝামেলা ছাড়া এক মূহুর্তেই মিনিমাইজ করে দিতে পারেন। এজন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে:

একটি হল কীবোর্ড শর্টকাট। উইন্ডোজ কী চেপে ধরে হোম বাটনটি চাপলেই আপনার কাঙ্খিত উইন্ডোটি ছাড়া সব উইন্ডো মিনিমাইজড হয়ে যাবে। আবার একই পদ্ধতি অনুসরণ করে উইন্ডোগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে পারেন।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি শুধুমাত্র মাউসের সাহায্যে করতে পারেন। অর্থাৎ কীবোর্ডে কোন সমস্যা থাকলেও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন। এটাকে আপনি “শেক কনট্রোল” বলতে পারেন। আপনি যে উইন্ডোটি রাখতে চান সেটার উপরে ক্লিক করে একটু ঝাকিয়ে নিন অর্থাৎ উইন্ডোটি সামান্য ডানে-বামে বা উপর-নিচে দ্রুত মুভ করুন। দেখবেন সেই উইন্ডো ব্যতীত সকল উইন্ডো মিনিমাইজড হয়ে গেছে। ফিরিয়ে আনার জন্য একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

_

৬. মাউস দিয়েই সিলেক্ট করুন একাধিক নির্দিষ্ট ফাইল


এতদিন একাধিক নির্দিষ্ট ফাইল সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে কীবোর্ডের বিকল্প ছিলনা। কারন নির্দিষ্ট ফাইল সিলেক্ট করতে Ctrl কী চেপে সিলেক্ট করতে হতো। তবে কীবোর্ড নষ্ট হয়ে গেলে এক্ষেত্রে বেশ বিপদেই পড়তে হয়। কিন্তু উইন্ডোজ সেভেন আর এই সমস্যা হবেনা কারন আপনি মাউস দিয়ে চেক বক্সের সাহায্যেই সিলেক্ট করে নিতে পারেন যেকোন নির্দিষ্ট ফাইল। এজন্য Computer-এ যেয়ে Organize এর Folder Option-এ যান। সেখান থেকে View ট্যাব সিলেক্ট করে “Use check boxes to select items” এ টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। এরপর প্রতিটি ফাইলের পাশেই একটি চেক বক্স দেখাতে পাবেন। এই চেক বক্সের সাহায্যেই সিলেক্ট করে নিতে পারেন একাধিক নির্দিষ্ট ফাইল।

_

৭. ফিরিয়ে নিন Quick Launch ও ভিস্তার Window Switcher


আমরা অনেকই উইন্ডোজের Quick Launch টুলবারটি ব্যবহারে অভ্যস্থ। কিন্তু উইন্ডোজ সেভেনে টাস্কবারেই সেই সুবিধা যোগ করায় Quick Launch টুলবারটি সরাসরি যুক্ত করে দেয়নি। তাছাড়া ভিস্তার স্টাইলিশ Switch between windows টিও সেভেনে সরাসরি খুজে পাওয়া যায়না। কিন্তু আপনি চাইলে এই দুটোই খুব সহজে যুক্ত করে নিতে পারেন কারন এগুলো সেভেনের মাঝেই দেয়া রয়েছে। এজন্য টাস্কবারের খালি জায়াগায় ডান বাটনে ক্লিক করে Toolbar এ যান এবং সেখান থেকে New Toolbar সিলেক্ট করে Folder এর স্থানে %userprofile%\AppData\Roaming\Microsoft\Internet Explorer\Quick Launch লিখে Set Folder দিন। এবার টাস্কবারের একেবারে ডানে দেখুন Quick Launch টুলবারটি যুক্ত হয়েছে এবং সেখানে উইন্ডোজ ভিস্তার Switch between windows অপশনটিও রয়েছে।

_

৮. সরাসরি ম্যাগনিফাই করুন কোন ঝামেলা ছাড়াই

ম্যাগনিফাই করে দেখতে মূলত আমরা উইন্ডোজ ম্যাগনিফাইয়ার ব্যবহার করি। কিন্তু হাতে সময় কম থাকলে তা চালু করতে গেলে সময়ের অপচয় ঘটে। কিন্তু আপনি চাইলে কীবোর্ড শর্টকাটের মাধ্যমেই তা করে নিতে পারেন। এজন্য উইন্ডোজ কী চেপে ধরে শুধুমাত্র + বা – কী চাপুন। দেখবেন উইন্ডোজ ম্যাগনিফাইয়ার কাজ করছে।

_

৯. এক্সপ্লোরারেই দেখুন খালি ড্রাইভসহ সকল ড্রাইভ

উইন্ডোজ সেভেনের একটি বিরক্তিকর বৈশিষ্ট্য হল কোন খালি ড্রাইভ যুক্ত করলে সেটা আর কম্পিউটারে দেখায়না। অর্থাৎ আপনি যদি কোন খালি পেনড্রাইভ বা যে কোন ফ্ল্যাশড্রইভ কম্পিউটারে যুক্ত করেন তাহলে সেটা আর দেখাবেনা। এটা ডিফল্ট সেটিংস-এ দিয়ে দেয়া একদমই মানায়না কারন এতে অনেকেই ভাবতে পারেন তার পেনড্রাইভে হয়তো সমস্যা আছে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আপনি চাইলে খালি ড্রাইভকেও এক্সপ্লোরারে নিয়ে আসতে পারেন। এজন্য Computer-এ যেয়ে Organize এর Folder Option-এ যান। সেখান থেকে View ট্যাব সিলেক্ট করে সেখান থেকে “Hide empty drives in the Computer folder” অপশনটি থেকে টিক চিহ্ন তুলে দিন। এখন যে কোন খালি ড্রাইভও আপনার কম্পিউটারেই দেখতে পারবেন।

_

১০. ফিরিয়ে আনুন ভিস্তার টাস্কবার


উইন্ডোজ সেভেন এর বিশাল টাস্কবারটি অনেকের ভাল নাও লাগতে পারে বিশেষ করে যারা উইন্ডোজ এক্সপি বা পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারে অভ্যস্থ তাদের জন্য টাস্কবারটির আকৃতি অপেক্ষাকৃত বেশ বড়ই। কিন্তু আপনি চাইলে ভিস্তার ছোট আকৃতির টাস্কবারকেই ফিরিয়ে আনতে পারেন। এজন্য টাস্কবারে ডান বাটনে ক্লিক করে Properties-এ যান এবং সেখানে Taskbar ট্যাব থেকে “Use small icons” -এ টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। এবার OK দিয়ে দেখুন টাস্কবারটি ভিস্তার টাস্কবারের আকৃতি ধারন করেছে।

আশা করি টিপসগুলো উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহারকারীদের কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

comments

16 কমেন্টস

    • ভাই উইন্ডোজ যখন ফেলে দিলেন তাহলে পরবর্তিতে নাহয় উবুন্টু বা লিনাক্স বেসড ওএস গুলোর টিপস দিয়ে দেব 😉

  1. ধন্যবাদ, রাহাত ভাই, আমি এখনো এক্সপি ইউস করি তারপর ও জেনে রাখা ভাল.।

  2. ভাই, খুশি হলাম। আমি কয়েকটি ফিচার নেটে খুঁজে পেয়েছিলাম। তবে আপনার বিস্তারিত বর্ণনা দেখে মনে হয় আর নেট ঘাঁটাঘাটি করতে হবে না।
    ধন্যবাদ আপনাকে। এরকম আরো পোস্ট আশা করছি।

  3. খুব ভাল লাগল আপনার এই পোস্টটি। আশা করি সামনে আরও অনেক পোস্ট পাবো।ফেসবুক এ এড করলে খুশি হব। আপনাকে ইতিমধ্যে একটি ফ্রেন্ড রিকয়েস্ট পাঠিয়েছি,প্লিজ এক্সেপ্ট করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.