শিরোনাম টি শুনে কি মনে মনে হচ্ছে আপনাদের? খবরটি বাংলাদেশের? না এটি বাংলাদেশের কোন খবর না তবে এটি শুধু বাংলাদেশ না পুরো পৃথিবীর জন্যই একটি মারাত্মক শুখবর। ২৭ বছর বয়সি “মার্ক আরথুর য্যাং” নামের এক ক্যামেরুন ইয়াংস্টার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে এই অসাধারণ “মেডিক্যাল ট্যাব”। বিশেষ করে হার্টের রোগীদের জন্য এ এক অসাধারণ আবিষ্কার।

CCOQq89UkAAOYzR

পুরো ক্যামেরুন জুড়ে প্রায় ২২ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে তবে সেখানে হার্টের বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র ৫০ জনের মতো। গ্রামে যখন কোন মানুষ হার্টের সমস্যায় ভোগে তখন ইচ্ছা করলেই তাকে খুব দ্রুত শহরের হসপিটালে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেয়া যায় না।

বর্তমানে এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্যামেরুনের প্রায় প্রতিটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে ইসিজি সহ প্রায় সকল ধরনের লাইফ সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। আরও মজার ব্যাপার হল এই যন্ত্রটি আপনাকে মাত্র ৫ মিনিটের মদ্ধে ইসিজি রিপোর্ট দিবে। পারবেন সেকেন্ডের ভেতরে সেই রিপোর্ট যেকোনো ট্যাব ধারি বিশেষজ্ঞর কাছে পাঠিয়ে দিতে। এবং নতুন এই মেডিক্যাল ট্যাবলেটে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি একটানা প্রায় ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে পারবে। এবং পোর্টেবল তো বটেই।

চলুন একটু পেছনের গল্প শুনি-

ছেলেটি তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিল। ২০০৯ সালের দিকে তার এক বন্ধু তাকে একটি নতুন ট্যাব দেখায়। যন্ত্রটির বহুমাত্রার ব্যবহার তাকে মুগ্ধ করে এবং সে পরবর্তীতে ভাবে যে, মেডিক্যাল সাইন্সের জন্য কেন এমন কিছু তৈরি করা যায় কিনা।

যে কথা সেই কাজ। সে শুরু করে এমন একটি মেডিক্যাল ট্যাব তৈরি করা। পরে অর্থের অভাবে তার প্রকল্প ধিরে ধিরে থেমে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হবার পথে বসে।

পরবর্তীতে কোনভাবে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট ঘটনাটি জানতে পারে এবং সে নিজে থেকে ঐ ছেলেকে প্রায় ৩০,০০০ ইউরো অনুদান দেয়।

২০১৩ সাল নাগাত ছেলেটি তার বহুকাঙ্খিত মেডিক্যাল ট্যাব তৈরি করতে সফল হয়। সামনে আসে নতুন এক সমস্যা। হুবহু এমন ধরনের ট্যাব তাকে তৈরি করে দিবে কে। তখন কথা হয় চীনের এক কোম্পানির সাথে। তারা তাকে প্রায় ৪ হাজার ট্যাব তৈরি করে দিতে রাজি হন। এবং সফল ভাবে তৈরিও করে দেন। বর্তমানে খুব দ্রুত তাদের প্রজেক্ট অগ্রসর হচ্ছে। তাদের টার্গেট শুধু ক্যামেরুন না, পৃথিবীর প্রায় সব দেশের হসপিটালে তারা তাদের এই প্রযুক্তি পৌঁছে দিবে।

আরও ভাল খবর হল, অন্যান্য ইসিজি মেশিন কিনতে যেখানে প্রায় ৩,৮০০ ইউরো মতন খরচ হয় সেখানে এই ট্যাব কিনতে খরচ হবে মাত্র ১,৫০০ ইউরো।

ছেলেটি বর্তমানে জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনের আন্ডার ৩০ তে নিজের নাম লিখাতে সক্ষম হয়েছেন। যারা কিনা ভবিষ্যৎ পৃথিবী বদলে দিবে। একই সাথে সে, আফ্রিকা মোবাইল পুরষ্কার ২০১৩ জিতে নিয়েছে।

বর্তমানে ক্যামেরুনের অনেক হসপিটাল এই যন্ত্রটি ব্যবহার করছে এবং বেশ পজেটিভ ফিডব্যাক দিচ্ছে।

কিছু কথা-

এতো শুনলেন ক্যামেরুনের কথা। বাংলাদেশে এমন অনেক প্রতিভা আছে যেগুলো একটু সাহায্যর কারনে ঝরে পড়ছে। প্রেসিডেন্ট তো দূরে থাক কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান একবারের জন্যও খোঁজ নিয়ে দেখে না কার কি অবস্থা।

আমরা ভুলে যাইনি, কিছুদিন আগে রাজশাহীতে তৈরি হওয়া ইলেকট্রিক গাড়ির কথা, ভুলে যাইনি কিছু এক ছাত্রের তৈরি করা মোটরসাইকেলের কথা যা কিনা বাতাসে চলবে। আরও একজন পেয়েছিলাম যে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল তৈরি করে দেখিয়েছিল।

আফসোস আমাদের পৃষ্টপোষকতা দেবার মতন কেউই নেই। যদি থাকতো তবে অবশ্যই কালকে ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেই তালিকায় আমারা আমাদের নাম লিখিয়ে আসতে পারতাম। এতে কোন সন্দেহ নেই।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.