কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকমন্ডলী ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু করেন ইলেকট্রন এবং ইলেকট্রনিক্সের সংজ্ঞার মাধ্যমে। প্রথম দিনেই পর্যায়ক্রমিকভাবে পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী, অপরিবাহী, পদার্থের এনার্জি ব্যান্ড তত্ব, পরিবাহীর গঠন, পরমাণুর গঠন, পরিবাহীতে ইলেকট্রন প্রবাহের কলাকৌশল ইত্যাদি আলোচনা করে থাকেন। এ সকল বিষয়গুলো ইলেকট্রনিক্স শেখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রথম দিনে ৮৫% শিক্ষর্থীর এ সকল বিষয়ে পূর্বধারণা থাকে না। তাদের অনেকেই অনেক চেষ্টা করেও কিছুই বুঝতে পারে না। তারপর আবার অনেক শিক্ষক আছেন প্রথমেই জানিয়ে দেন যে “ ইলেকট্রনিক্সের তাত্বিক বিষয় সমূহ চোঁখে দেখা যায় না, কল্পনা করে এবং মুখস্ত করেই শিখতে হয়”।

d2আমার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। অনেক উৎসাহ নিয়ে কলেজে গিয়েছিলাম ইলেকট্রনিক্সের ক্লাস করতে কিন্তু সত্যিই বুঝে উঠতে পেরেছিলাম না কিছুই । বরাবরই মুখস্তবিদ্যায় আমার দুর্বলতা ছিল সবচেয়ে বেশি আর এটা চিন্তা করেই ইলেকট্রনিক্সে ভর্তি হয়েছিলাম। ধারণা ছিল ইলেকট্রনিক্স মানেই মজার মজার সার্কিট তৈরি করা। কিন্তু স্যারের মুখে যা শুনলাম তাতে হতাস না হয়ে উপায় ছিল না। যা হোক ক্লাসে না বুঝতে পারলেও নিজের ভেতরে একটা জিনিস ছিল, যে আমি না বুঝে কোন কিছু মুখস্ত করব না, আমাকে বুঝতেই হবে আর ইন্টারনেটের বিশাল জ্ঞান সম্রাজ্যতো হাতের মুঠোতেই আছে।

ইলেকট্রনিক্স ক্লাসরুম এবং আমাদের কল্পনার সাতরং

Presentation-Equipment2ইলেকট্রনিক্সে কল্পনার প্রয়োজন আছে কিন্তু বিষয়টিকে কাল্পনিক বলা যাবে না । কারণ ইলেকট্রনিক্সের তাত্বিক বিষয়বস্তু অসংখ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধমে আজ ইন্জিনিয়ারিং এর একটি অন্যতম শাখাতে পরিণত হয়েছে ।বর্তমানে যে ডিজিটাল বিবর্তনের মধ্যেদিয়ে আমরা সময় অতিবাহিত করছি তার এক মাত্র কারণ ইলেকট্রনিক্স । আমাদের আধুণিক পৃথিবীতে যে গতির সঞ্চার হয়েছে তাও সম্ভব হয়েছে ইলেকট্রনিক্সকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে। তাহলে কি আজো আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রথম ইলেকট্রনিক্স ক্লাসে বলা হবে “ ইলেকট্রনিক্সের তাত্বিক বিষয় সমূহ চোঁখে দেখা যায় না, কল্পনা করে এবং মুখস্ত করেই শিখতে হয়”?

প্রথম ইলেকট্রনিক্স ক্লাসরুমে যা হতে পারত

fmআমরা একটা শ্রেণীকক্ষে বসে আছি আর ১৫ মিনিট পর ক্লাস শুরু হবে। সাজানো গোছানো একটা ক্লাসরুম। শ্রেণীকক্ষের ভিডিও প্রজেক্টরের স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে আজকের ক্লাসের ওভার ভিউ। ইতোমধ্যেই সবাই প্রয়োজনীয় লেকচারশীট একদিন আগেই হাতে পেয়ে গেছে । ক্লাসের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত ট্রেনারবোর্ড, ইন্সট্রুমেন্ট টেবিলে সাজানো আছে যদিও এটা কোন প্রাকটিক্যাল ক্লাস নয়। আসলে এগুলো দিয়ে কোন প্রাকটিক্যাল প্রোজেক্ট করানো হবে না তবে বিষয় বস্তুর সাথে কোন ইন্সট্রুমেন্ট বা ডিভাইসের সম্পর্ক থাকলে তা দেখানোর জন্যই এ আয়োজন। বলা যেতে পারে এ বিষয়ে যখন প্রাকটিক্যাল ক্লাস হবে তার পূর্ব প্রস্তুতি।

যথা সময়ে ক্লাস শুরু হল শিক্ষক তার নিজের পরিচয় এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় শেষে ক্লাস শুরু করলেন। শিক্ষক প্রয়োজনীয় ভিজুয়্যাল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ক্লাস শুরু করলেন। প্রত্যেকটা বিষয়ের উপর পরিকল্পিত তথ্য চিত্র শ্রণীবিভাগ অনুসারে স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে।প্রত্যেকটা বিষয় সহজ সুন্দর এবং বিস্তারিতভাবে শিক্ষক উপস্থাপন করছেন।d3 এমন কোন বিষয় আসে যেটা বাস্তবে দেখানো সম্ভব নয় কিন্তু প্রয়োজনীয় সমীকরণ এবং এনিমেশন এর মাধ্যমে দেখানো সম্ভব তা তিনি ভিজ্যুয়াল স্ক্রিনে দেখানোর পাশাপাশি নিজের মত করে সহজভাবে বিশ্লেষণ করছেন। সংক্ষিপ্ত প্রাকট্রিক্যাল বিষয়বস্তু পূর্বে ধারণকৃত ভিডিওর মাধ্যমে সহজভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। সবশেষে শিক্ষর্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অনুশীলনের উপকরণ এবং এবং এসাইনমেন্ট ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে শিক্ষক শ্রেণীকক্ষ ত্যাগ করলেন।

comments

2 কমেন্টস

    • কেন স্বপ্নে কেন, তোমার কাছে কেন মনে হল যে এটা শুধু মাত্র স্বপ্নেই সম্ভব? আসলে আজ আমাদের কাছে যা কিছুই স্বপ্ন আগামীকাল হয়তবা তাই বাস্তব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.