প্রথমে আসি ইবোলা ভাইরাস কি?

ভাইরাসটির সম্পূর্ণ নাম ইবোলা ভাইরাস ডিসেজ। সর্বশেষ আক্রমণে মৃত্যু ঘটেছে প্রায় শতকরা ৫০% ভাগ । ঠিক কোথা থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি? সেই ১৯৭৬ সালে কংগোর জিয়েরা এলাকায় ইবোলা নামক নদীর তিরে এটির প্রথম সংক্রমণ শুরু হয় বা ধরা পরে। তখন এই রোগের আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১৮ জন এবং এর মদ্ধে ২৮০ জনই মারা যায়। এর পর থেকে এই ভাইরাসের নাম করন করা হয় ইবোলা। এই ভাইরাসের ধারক বা বাহক হচ্ছে বাদুর। এটি মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাদুর ইত্যাদি বন্য প্রানির মাধ্যমে। ধারণা করা হয় তখনকার সময়ে কেউ একজন আক্রান্ত কোন বন্য পশুর মাংস খেয়ে ফেলে এবং তারপর থেকে এই রোগের বিস্তার শুরু হয়।

Ebola-virus

যখন একবার কোন বেক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তখন সেই আক্রান্ত বেক্তির রক্ত, পুঁজ, এমনকি তার ব্যাবহার করা কাপর বা বিছানা থেকে এটি ছরাতে পারে। এ কারনে আক্রান্ত বেক্তিকে চিকিৎসা দিতে সেবা কর্মীরা পর্যন্ত ভয় পায় কারন যেকোনো সময় তারাও এই ভয়ংকর ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাহলে বুঝুন এটি কতোখানি মারাত্মক একটি ভাইরাস।

ইবোলা বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকাতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পরেছে। ইতিমধ্যে বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছেন। এই ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন শান্তি মিশনে কর্মরত আছেন আমাদের দেশের সেনাবাহিনী জাদের মাধ্যমে খুব সহজে আমাদের দেশেও চলে আসতে পারে এটি। আমাদের সরকারও এটি নিয়ে খুব দুশ্চিন্তার ভেতরে আছেন এবং দেশের ভেতরে ঢোকার জন্য যে এয়ারপোর্ট এবং বর্ডার আছে সেগুলাতে কঠিন নজরদারি রাখার কথা শোনা যাচ্ছে।

ইবোলার লক্ষনঃ এই ভাইরাসটি কোন মানুষকে আক্রান্ত করার ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যেই লক্ষন বা উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক ভাবে আক্রান্ত বেক্তির জ্বর আসবে এবং সাথে সাথে গায়ে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, গলা ব্যাথা, বমি, ডাইরিয়া দেখা দিবে। এছাড়া এর সাথে লিভার ও কিডনীর সমস্যার লক্ষণ থাকবে। কখনো কখনো আক্রান্ত বেক্তির রক্ত বমি হতে পারে। এবং সাথে সাথে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়বে ও পায়খানা দিয়ে রক্ত যাবে। এই লক্ষণ গুলো দেখা দেবার সাথে সাথে ভাল কোন ল্যাবে গিয়ে পরিক্ষা করানো উচিৎ বা ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিতে হবে।

ebola_virus

ইবোলা ভাইরাস নির্ণয় করার জন্য যে পরিক্ষা গুলা করতে হবেঃ

১। Antibody-capture enzyme linked immunosorbent assay (ELISA)

২। Antigen capture detection test.

৩। Serum neutralization test

৪। Reverse transcriptase polymerase chain reaction assay

৫। Electron microscopy virus isolation by cell culture

সূত্রঃ (WHO)

Ebola-Virus

ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসাঃ

১। পানি স্বল্পতা দূর করার জন্য আক্রান্ত রোগীর মুখে বা শিরাই স্যালাইন দিতে হবে পানি স্বল্পতা দূর করার জন্য।

২। রোগীর মৃত্যুর ঝুকি কমাতে ব্লাড প্রোডাক্ট বা ইমিউন থেরাপি দেয়া জেতে পারে।

৩। বর্তমানে এর সঠিক কোন চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি। তবে অনেক আশার বানি শোনা যাচ্ছে। যেমন, যে সকল আক্রান্ত বেক্তি এর মদ্ধে সুস্থ হয়ে উঠেছে তাদের রক্ত নিয়ে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি খুব কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বক্তব্য অনুযায়ী আগামি কয়েক সপ্তাহের ভেতরে এই ভ্যাকসিনটি পশ্চিম আফ্রিকা সহ কয়েকটি আক্রান্ত স্থানে পাঠানো হবে। এখানে উল্লেখ্য যে ইবোলা ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা বেক্তিদের শরীরে যে এন্টিবডি বা প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে সেটি দিয়ে এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করা হচ্ছে। আমরা আশাকরি যেন গবেষকদের কথা সত্যি হয়।

 

ইবোলা থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে বা এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় কি?

১। সর্বপ্রথম আপনাকে বন্য প্রানি বা জন্তু জানোয়ার থেকে দূরে থাকতে হবে। কারন এদের রক্ত মাংস থেকে ইবোলা ছরায়। কেউ আক্রান্ত হলে তাকে সবার থেকে আলাদা করে এবং খুব সতর্কতার সাথে চিকিৎসা দিতে হবে।

২। সবসময় সাবান বা এলকোহল মিশ্রিত হ্যান্ডওয়াশ দিতে হাত ধুতে হবে।

৩। অন্য কোন বেক্তি বা রোগীর রক্ত মিশ্রিত আছে এমন কোন বস্তুতে হাত দেবার আগে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যতদূর সম্ভব এর থেকে দূরে থাকায় ভাল।

৪। ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন কোন প্রাণীকে না ধরাই ভালো।

৫। এরপরেও যদি আপনি আক্রান্ত হয়ে পরেন তবে আপনাকে যত দ্রুত সম্ভব একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে।

৬। পোস্টে দেয়া ভিডিও এবং ছবি থেকেও আপনারা যথেষ্ট ধারণা পাবেন যে, কিভাবে এটিকে প্রতিকার করবেন।

 

সূত্রঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), উইকিপিডিয়া  এবং বিভিন্ন ব্লগ সাইট

comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.