ইন্টারনেট অফ থিং

ইন্টারনেট অফ থিং আসলে কি?

একদম সহজ কথায় বস্তুর জন্য ইন্টারনেট, একাধিক বস্তুর মধ্যে ইন্টারকানেক্টিভিটির ধারণাই হলো “ইন্টারনেট অফ থিং”। আমরা সাধারণত যে ধরণের ইন্টারনেটের উপযোগিতা বুঝি তা হলো মানুষেরই জন্য মানবনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ইন্টারনেট অফ থিং আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে যে,এক যন্ত্র নাকি আরেক যন্ত্রের সাথে কথা বলবে, তাদের মধ্যে ইন্টারকানেক্টিভিটি থাকবে, যন্ত্র বুদ্ধিমান হবে এবং চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সামর্থ্য থাকবে।

পাগল নাকি? এও সম্ভব!
চৌধুরী সাহেব একদম অবাক হবেন নাহ আর ভুলেও পাগল বলবেন নাহ।

একটু চিন্তা করে দেখুন আপনি নিজের অজান্তেই ইন্টারনেট অফ থিং ধারণার আওয়তাভুক্ত মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছেন কিন্তু আপনি জানেনই না যে এটাই ইন্টারনেট অফ থিং। আচ্ছা একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে, আপনি হয়তো দেখে থাকবেন বাজারে নতুন আসা এয়ার কন্ডিশনার গুলো আপনার স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশানের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ। ধরুন, আপনি এই গরমের মধ্যে এসি ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সেট করে জমিয়ে একটা ঘুম দিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো আর পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক কমে গেল। এর প্রভাব কিছুটা হলেও ঘরের মধ্যে পরবে যা আপনার অস্বস্তির কারন হতে পারে। তখন আপনার সাথে থাকা স্মার্টফোনটি ইন্টারনেট থেকে আপনার এলাকার আবহাওয়ার খবর নিয়ে আপনার ঘরের এসিটিকে একটি সিগন্যাল পাঠাবে । এতে বুদ্ধিমান এসি বুঝে যাবে। আপনার ঘরের তাপমাত্রা এবং পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে, অবস্থা বুঝে এটি ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমমানের অবস্থায় নিয়ে যাবে ফলে ঘুমের জন্য আপনার পছন্দের পরিবেশটি অপরিবর্তিত থাকবে।
এই ঘটনাটি কিন্তু পুরো ইন্টারনেট অফ থিং ধারণার আওয়তাভুক্ত। আপনার ফোন, এসি সব একটি অপরটির সঙ্গে কথা বলছে, তারা নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।
IoT1ইন্টারনেট অফ থিং কিভাবে কাজ করে?
ইন্টারনেট অফ থিং যেকোনো ডিভাইসে, নেটওয়ার্কে, স্থানে এমনকি যেকোনো কন্টেক্সটে কাজ করে। ইন্টারনেট অফ থিং এর মূল চালিকাশক্তি বিগডেটাসমূহ আর সাথে বিশ্লেষণধর্মী শক্তি। সেন্সরের কাজ এখানে অনেক বড় আকারে ভূমিকা রাখে। বিগডেটা মানে অনেক বড় সাইজের ডেটা না, অনেক ছোট ছোট ডেটার সম্মিলিত রূপ হলো বিগ ডেটা । এখন প্রশ্ন হলো, এইসব কিভাবে ইন্টারনেট অফ থিং এর সাথে যুক্ত হবে? একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আপনারা হয়তো দেখে থাকবেন, এক ধরণের স্মার্ট ওয়াচ আছে যেটা আপনি হাতে পরে থাকলে আপনার রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা মাপতে এবং সংরক্ষণ করতে পারে। সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। কারো ক্ষেত্রে রক্তচাপ যে অবস্থায় থাকলে অনেক চিন্তার কারন হতে পারে সেই একই অবস্থা অন্য কারো জন্য স্বাভাবিক হতে পারে। এজন্য স্মার্টওয়াচ আপনার শরীরের সার্বিক অবস্থার ডেটাগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি যদি কোন অবস্থা বেগতিক হয় তা আপনাকে জানিয়ে দিবে । এতে আপনি আগে থেকেই সাবধান হয়ে যেতে পারেবেন। যদি অবস্থা বেশি খারাপ হয় থাহলে ডিভাইসটি আপনার অবস্থা নির্ধারণ করে তার ডেটাবেজে থাকা নিকটবর্তী হাসপাতালে আপনার কোন নির্দেশনা ছাড়াই যোগাযোগ করে দেবে। হাসপাতালের ডাক্তার আপনাকে হয়তো অনেক প্রশ্ন করতেন কিন্তু এক্ষেত্রে ডাক্তার অনেক কম প্রশ্ন করেও আপনার সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবে কারণ হাতের ডিভাইসটি আপনার বেশকিছু দিনের ডেটা সংরক্ষণ করে রাখে যা দেখেই ডাক্তার সহজেই একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারেন।

একটু খেয়াল করলে দেখবেন, উপরের ঘটনাটিতে সেন্সরের ব্যবহার যেমন আছে তেমনি আছে বুদ্ধিমান যন্ত্রের বিশ্লেষণধর্মী শক্তির ব্যবহার যা অনেক ডেটা নিয়ে কাজ করে। আর এই সব কিছু নিয়েই ইন্টারনেট অফ থিং ধারনা।

আমরা পরবর্তী পর্বে ইন্টারনেট অফ থিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানবো।

-তিতাস আহমেদ

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.