এমন একটি সময় আসবে যখন আমাদের চেনা শহরগুলোও হয়ে যাবে বিস্মৃত ছবি সূত্রঃ গুগল

ইতিহাসের নগরী!
বিস্মৃত এই নগরীগুলোতেও একসময় ছিল মানুষের আনাগোনা। কত মানুষের আনন্দ বেদনার কাব্য রচিত হয়েছে এই শহরগুলো ঘিরে। এই শহরগুলোতেও একসময় ছিল নানা বর্তমানের গাঁথা, যা কালে কালে পরিণত হয়েছে ইতিহাসে। এই বিস্মৃত শহরের ইতিহাসগুলো জানাতেই কিছু ক্ষুদ্র প্রয়াস। আজ দেয়া হল এর চতুর্থ পর্ব। আজকের পর্বে থাকছে গ্রেট জিম্বাবুয়ে, হাতরা, সাঁচি, হাত্তুসা।

গ্রেট জিম্বাবুয়েঃ

গ্রেট জিম্বাবুয়ে ছবি সুত্রঃ ট্যুরোপিয়া
গ্রেট জিম্বাবুয়ে
ছবি সুত্রঃ ট্যুরোপিয়া

বর্তমানের জিম্বাবুয়ের বিস্তৃত অঞ্চল নিয়েই ছিল দ্য গ্রেট জিম্বাবুয়ে। এর আশেপাশে রয়েছে কিছু পাথরের ধ্বংসস্তূপ। এর নামানুসারেই আজকের জিম্বাবুয়ের নামকরণ করা হয়েছে। “গ্রেট” শব্দটির সাহায্যে বোঝানো হয়েছিল এরকম শত শত ধ্বংসস্তূপের সম্মিলন, যা একত্রে গঠিত করেছিল জিম্বাবুয়েকে।
স্থানীয় বান্টু গোত্রের লোকেরা ১১ শতকে এটি তৈরির কাজ শুরু করে এবং শেষ করতে প্রায় ৩০০ বছর সময় লাগে। এর সুউচ্চ স্থানে প্রায় ১৮,০০০ অধিবাসীর বসবাস ছিল। রাজনৈতিক কলহ, সম্পদের অপ্রাপ্তি, বাণিজ্যের অপ্রতুলতা ইত্যাদি নানা কারণে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

হাতরাঃ

হাতরা  ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিয়া
হাতরা
ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিয়া

দূর্গসদৃশ হাতরা শহরটি ছিল পার্থিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনে এবং আরব রাজ্যের প্রথম রাজধানী ছিল এটি। রোমানদের মুহুর্মুহু আক্রমণের ফলেও এটি অটুট ছিল কারণ এর দেয়ালগুলো ছিল খুবই মোটা এবং দূর্গগুলো শহরটিকে বেষ্টন করে রেখেছিল খুব ভালোভাবে। ইরানিয়ান সাশানিদ রাজ্যের শাপুর ১ এর মাধ্যমে এই শহরটি অবশেষে ধ্বসে যায়। হাতরার ধ্বংসাবশেষ বর্তমান ইরাকে অবস্থিত এবং এতে বেশ কিছু হেলেনিস্টিক ও রোমান সাম্রাজ্যের আর্টিফ্যাক্ট রয়েছে।

সাঁচিঃ

সাঁচি  ছবিসূত্রঃ ট্যুরোপিয়া
সাঁচি
ছবিসূত্রঃ ট্যুরোপিয়া

সাঁচি শহরে এমন একটি দালান রয়েছে যার সাথে হাজারো বছরের ইতিহাস জড়িত। তৃতীয় শতকের কিছু স্তূপ এখানে রয়েছে এবং শেষ হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও জ্ঞানচর্চার স্থানের মাধ্যমে। ধ্বংসস্তূপে পাওয়া এই শহরের উপাদানগুলো তৈরি হয়েছিল ১০ম ও ১১তম শতকে। ভারতে বৌদ্ধ মতবাদ হ্রাস পাবার ফলে সাঁচি শহরটিকে পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা হয়। ১৮১৮ সালে এক ব্রিটিশ অফিসার এই শহরটিকে পুনরুদ্ধার করেন।

সূত্রঃ ট্যুরোপিয়া

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.