ইতিহাসে বিস্মৃত রয়েছে নানা নগরী ছবি সূত্রঃ গুগল

ইতিহাসের সাথে স্বভাবতই মানুষের আকর্ষণ দুর্নিবার। মানুষ যতই সভ্য কিংবা প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এগিয়ে যাক না কেন, ইতিহাসের প্রতি আকর্ষণ থাকে তাদের। এজন্যই তো বিজ্ঞানীদের হাতে প্রাচীন কোন বস্তু এলে তা তারা গ্রহণ করে সাদরে, হয়ে ওঠে কৌতুহলী।
প্রাচীন হারিয়ে যাওয়া নগরী সম্পর্কে আমরা কতটুকুই বা জানি? পৃথিবীতে সভ্যতার সাথে এগিয়ে যাওয়া মানুষগুলো যে নগরী তৈরি করেছিল, তা টিকে থাকলনা কেন? কোন রহস্য কি ছিল? ভুলে গিয়েছি কেন আমরা এই নগরীগুলোকে?
আজ আপনাদের দেয়া হল প্রাচীন এই নগরীগুলো সম্পর্কে কিছু জানানোর দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে থাকছে স্কারা ব্রি, মেম্ফিস, কারাল ও ব্যাবিলনঃ

স্কারা ব্রিঃ

শহর স্কারা ব্রি ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিডিয়া
শহর স্কারা ব্রি
ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিডিয়া

স্কারা ব্রি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম একটি শহর, যা ইউরোপের পাথর যুগের যে গ্রামগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম সংরক্ষিত। ১৮৫০ সাল পর্যন্ত এই নগরী অনাবিষ্কৃত ছিল। প্রচন্ড এক বালুঝড়ে এই শহরটি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পাথরের যে দেয়ালগুলো রয়েছে তা বেশ ভালোভাবেই অটুট রয়েছে, যার কারণ হচ্ছে এগুলো বালু দ্বারা পূরণ করা হয়েছিল। তবে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে যারা এর আধিবাসী ছিল, তারা বেশিদিন এই গ্রামে থাকে নি। এই গ্রামে কোন গাছপালা ছিল না তাই বসবাসের জন্য যে বাড়িঘর কিংবা ব্যবহারের জন্য যে আসবাবপত্র ব্যবহার করা হত, তা ছিল পাথরের তৈরি। স্কারা ব্রি খ্রিস্টপূর্ব ৩১৮০-২৫০০ সাল পর্যন্ত স্কারা ব্রি নগরীতে মানুষের বসবাস ছিল। আবহাওয়া রুক্ষ হতে হতে এবং প্রচুর ঠান্ডা হয়ে যাবার কারণে এর অধিবাসীরা এই গ্রামে আর বেশিদিন অবস্থান করতে পারে নি।

মেম্ফিসঃ
খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ সালে মেম্ফিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন কিংবদন্তী শহর মেনেসের রাজা। তিনি ঈজিপ্টের দুটো অংশ একত্রিত করে এই নগরী তৈরি করেন। মেম্ফিসকে মূলত বিশাল এক দূর্গ বলা যায় যার পুরোটা ছিল মেনেসের নিয়ন্ত্রণে। পুরো জলভাগ ও স্থলভাগের কিছু অংশ ছিল ঈজিপ্টের উপরিভাগের দখলে। তৃতীয় ডাইনাস্টির যুগে সাক্কারা একটি পরিণত শহরে রুপধারণ করে। আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেটের অধীনে নুবিয়া, পারস্য, মেসিডোনিয়া খুব ভালোভাবেই শাসিত ছিল। ধর্মীয় শহর হিসেবে এরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ প্রথমে এখানে খ্রিস্টীয় ধর্ম ও পরে ইসলামের পতাকা ওড়ে। যীশুর মৃত্যুর ৬৪০ বছর পর এটি মুসলমানদের সম্পূর্ণ অধীনে চলে আসে। এর ধ্বংসাবশেষের মাঝে যা যা গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে তা হল, তাহ এর বিশাল মন্দির, রাজকীয় প্রাসাদ, দ্বিতীয় রামেসেসের বিশাল একটি মূর্তি।

কারালঃ

প্রাচীন শহর কারাল ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিডিয়া
প্রাচীন শহর কারাল
ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিডিয়া

পেরুর সুপ উপত্যকায় অবস্থিত কারাল শহরটি আমেরিকার অন্যতম একটি প্রাচীন শহর। যীশুর জন্মের ২৬০০-২০০০ সালের মাঝে এই শহরটি স্থাপন করা হয়। প্রায় ৩০০০ অধিবাসীদের সমন্বয়ে এই শহরটি ছিল নর্তে চিকো সভ্যতার অন্যতম একটি নিদর্শন। এর একটি বিশাল জনসমাগমের কেন্দ্র ছিল এবং তাকে ঘিরে ছিল বিশাল বিশাল ছয়টি প্লাজা। সুপ উপত্যকায় যে নিদর্শগুলো ছিল তা কারাল শহরের সাথে বেশ ভালভাবেই মিলে যায়। পাথরের ছোট ছোট চক্রাকারে সাজানো প্ল্যাটফর্ম কারাল শহরের অন্যতম নিদর্শন।

ব্যাবিলনঃ

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার একটি নিদর্শন ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিডিয়া
          ব্যাবিলনীয় সভ্যতার একটি নিদর্শন
               ছবি সূত্রঃ ট্যুরোপিডিয়া

ইউফ্রেতিস নদীর অববাহিকায় ব্যাবিলন হচ্ছে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া রাজ্যের অন্যতম একটি নিদর্শন। ব্যাবিলন হচ্ছে ব্যাবিলনিয়ার রাজধানী। খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকে এটি আসিরীয় সভ্যতার অধীনে চলে আসে। রাজা নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যাবিলন অন্যতম একটি রুপ ধারণ করে। এই সময় এখানে ঝুলন্ত উদ্যান তৈরি হয় যা প্রাচীন আমলের একটি অন্যতম নিদর্শন। কিন্তু আক্ষেপের কথা হচ্ছে, প্রাচীন এই নগরীর অধিকাংশই এখন ধ্বংসাবশেষে রুপ নিয়েছে।
সূত্রঃ ট্যুরোপিয়া

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.