সমস্যা সৃষ্টিকারী ইঁদুর

কিউই পাখিকে রক্ষা করবার জন্য নিউজিল্যান্ড এবার একটি অভিনব পদ্ধতি বাছাই করেছে।২০৫০ সালের মধ্যে সকল ইঁদুর, অপোজাম ও অন্যান্য যে সকল গৃহপালিত পশু রয়েছে তাদেরকে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, উড়তে অক্ষম কিউই পাখির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এরা হুমকি স্বরুপ।
নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জন কী বলেছেন এটা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় হতে যাচ্ছে কারণ পৃথিবীতে এমনটি আর কোন দেশে হচ্ছে না। তিনি বিশ্বাস করেন যে তারা সকলে মিলে যদি একত্রে কাজ করেন তবে এমনটি অবশ্যই করা সম্ভব। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যেটি হবে তা হচ্ছে, তীরবর্তী অঞ্চলে যে সকল শিকারীরা রয়েছে যারা অন্যান্য প্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের দমন করা হবে এবং একই সাথে এসব প্রাণীদের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলগুলো থেকে বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজিল্যান্ডে ইঁদুররা প্রথমে আসে ১২০০ সালে যখন পলিনেশিয়ানরা এখানে আবাস স্থাপন করে। তারপর ১৮০০ সালের দিকে ব্রিটিশ ও ইওরোপিয়ানরা আবার যখন আসে তখন তাদের জাহাজে করে ইদুরদের বয়ে নিয়ে আসা হয়।১৭০০ সালের দিকে ক্যাপ্টেন জেমস কুকের নৌকোয় চড়ে বিড়ালরা আসে ১৭০০ সালের দিকে।
জন কী আশা করছেন যে নিশ্চয়ই এমন কোন প্রক্রিয়া থাকবে যার মাধ্যমে এই উপদ্রবদের নির্মূল করা যাবে। হতাশ করেন নি বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন ২০৫০ সালের মধ্যে অবশ্যই এটি করা সম্ভব।
নিউজিল্যান্ডের এনসাইক্লোপিডিয়া ‘টি আরা’-তে বলা হয়েছে যে এসব প্রাণীরা এ অঞ্চলে এসেছিল কিছু সমস্যার সমাধান হিসেবে। তা তারা করেছে ঠিকই, কিন্তু সাথে সাথে আরো নতুন কিছু সমস্যারও সৃষ্টি করে দিয়েছে।
যেমন, স্টোটস নামক প্রাণীরা ব্রিটেন থেকে এই অঞ্চলে এসেছিল ১৮৭০ সালের দিকে। উদ্দেশ্য ছিল খরগোশ দমন করা। কিন্তু তারা খুব দ্রুত তাদের বংশ বিস্তার করা শুরু করেছিল এবং পাখির বাসা থেকে ডিম চুরি করে তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল। ঠিক একই কথা বিড়ালদের ক্ষেত্রেও খাটে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন যে এসব উপদ্রব সৃষ্টিকারী প্রাণীরা বছরে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকার ক্ষতি করে এবং খামারে মড়ক লাগায় জীবানু বিস্তারের মাধ্যমে। এছাড়াও ইঁদুর ও স্টোটস প্রতি বছর ২৫ মিলিয়ন পাখিদের হত্যা করে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.