নিউইয়র্কের গাগেনহেইম মিউজিয়ামে আগামী ৪ মে স্থাপন করা হবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি একটি কমোড। এটি তৈরি করেছেন ইতালিয়ান ভাস্কর মোরিজিও ক্যাটেলান। নামকরা এই ভাস্কর এর আগেও কয়েকটি স্বর্ণে মোড়া কমোড তৈরি করেছেন। মিউজিয়ামের পাবলিক বাথরুমগুলোর একটিতে স্থাপন করা হবে স্বর্ণের এই কমোড।

মিউজিয়ামের মুখপাত্র মলি স্টুয়ার্ট বলেছেন, ‘কেউ চাইলেই ওই টয়লেটে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে পারবেন। অথবা শুধু কমোডটি দেখে যেতে পারবেন।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো গাগেনহেইমে কোনো ব্যবহারযোগ্য টয়লেট প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। তা তো হবেই, কারণ এটি যে আর দশটা টয়লেটের মতো নয়।

iuhiuh

ক্যাটেলান ২০১১ সালের পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এটি তার নতুন কাজ। ‘মোরিজিও ক্যাটেলান : আমেরিকা’ নামের এই কমোড তৈরির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, এই কাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রাধান্য পেয়েছে।  নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘একটা ঝুকি আছে, তা হলো মানুষ এই শিল্পকর্ম উপহাস হিসেবে ধরে নিতে পারে। আমার সৃষ্টিকর্মের মানে কী, তা অন্যদের জানানো অবশ্য আমার কাজ না। তবে আশা করি, এই শিল্পকর্ম থেকে মানুষ একটা অর্থ বের করে নেবে।’

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ অবশ্য এটিকে তাদের বিরাট একটি সংযোজন হিসেবেই দেখছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের মত হলো, বিলাসবহুল এই শিল্পকর্ম যা সমাজের ১ শতাংশ মানুষও ভোগ করার সুযোগ পায় না, তা একাধারে যেমন একটি শিল্পকর্ম, তেমনি এটি আমেরিকার সামাজিক নীতিরও প্রতিফলন। অর্থাৎ ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষেরই যে বিলাসবহুল সামগ্রী ভোগের অধিকার আছে, আমেরিকা তা বিশ্বাস করে। এই বিষয়টিই শিল্পকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

টয়লেটটি নারী-পুরুষ সবাই ব্যবহার করতে পারবে। এই স্বর্ণের কমোড ঘিরে দর্শকের ভিড় বাড়বে-  এমনটাই আশা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তারা সতর্ক। বলা তো যায় না, স্বর্ণের কমোড বলে কথা।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.