গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত পরিমাণে মাউস ব্যবহার করার কারণে রিপিটিটিভ স্ট্রেস ইনজুরি হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের মধ্যে অনেকেই অতিরিক্ত বলতে দিনের মধ্যে বেশ কয়েক ঘন্টা কম্পিউটার ব্যবহার করি। সর্বপ্রথম স্ট্যানফোর্ড রিসার্স ইন্সটিটিউটে মাউস শব্দটি ১৯৬৫ সালর দিকে ব্যবহৃত হওয়া ও ১৯৮৪ সালের দিকে বানিজ্যেকভাবে এ্যপল ম্যাকিনটোশের সাথে বাজারে আসার পর থেকে এ যন্ত্রটি কম্পিউটার ব্যাহারকারীদের অত্যন্ত প্রিয়। এক কথায় বলতে গেলে আজকের দিনে মাউসই কম্পিউটার ব্যাবহারের চাবিকাঠি। হালের নোটবুক বা নেটবুকে শক্তিশালী টাচপ্যাড থাকার পরেও অনেককে ইউএসবি মাউসেই সাচ্ছন্দ বোধ করতে দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে এটি কম্পিউটার ব্যবহাকারীদের জন্য কাল হয়ে দাড়াচ্ছে। উপরে বর্ণিত রিপিটেটিভ ইনজুরি আজকাল প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যারা অতিরিক্ত গেম খেলে। সৌভাগ্যবশত মাউস ব্যবহার করার বিকল্প একটি উপায় আছে যা হাত ও বাহুর জন্য আরও বেশি সহজ হবে। এর মধ্যে মজাদার একটি হলো এয়ার মাউস যা অল্প কিছুদিনের মাঝেই বাজারে  আসবে। এটি তৈরি করেছে কানাডিয়ান একটি ফার্ম-  ডেনমার্ক লিমিটেড।

নতুন মাউস
গ্লাভসের মতো মাউস

এটি ইউনিক যে ব্যাপারটির জন্য তা হলো এটি গ্লোভের মতো করে হাতে পরতে হবে। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক বাজরামোভিক এবং ওরিন টেসলার বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠি ছিলেন। মার্ক বলেন, ‘আমাদের প্রথম বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে আমি একটা কম্পিউটার মাউস বানিয়েছিলাম (যা ব্যবহার করলেও রিপিটিটিড স্ট্রেস ইনজুরির সমস্যা হতো) এবং সেটা ব্যবহার করে প্রায় কয়েক সপ্তাহ আমার হাত এবং বাহু অসাড় হয়েছিল। অসাড়তা, ব্যাথা সে সব কিছুই যা তোমরা রিপিটিটিভ স্ট্রেস ইনজুরি বলতে বোঝ তা সবই আমার হয়েছিল’। ঐ সেমিস্টার পরে মার্ক এবং অরিন বুঝতে পারলেন যে, তাদের তৈরি করা প্রোডাক্টটি আসলে পারফেক্ট ছিল না। তারপর তারা আবার নতুন করে ডিজাইন করা শুরু করলেন। এর ফলাফল হলো এয়ার মাউস।

এই ওয়্যারলেস মাউসটাতে অপটিক্যাল লেসার ব্যবহার করা হয়েছে। এটি রিচার্জ করা ছাড়া প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহার করা যাবে। কোম্পানি ওয়েবসাইট অনুসারে এটি হাত এবং কব্জিতে আপনা থেকেই সঠিক জায়গাতে বসে যাবে। এর কারণে ব্যবহারকারীর হাত নিউট্রল পজিশনে থাকবে এবং কোনো জোর প্রয়োগ করা লাগবে না বললেই চলে। শুধু তাই নয় এটি হাতের জন্য যেমন সহজ হবে তেমনি মাউসের স্পিড এবং অ্যাকিউরেসি ও বেড়ে যাবে। মাউসটি এমনভাবে ডিজাইন করা যে যতক্ষণ না হাত কোন নিউট্রাল, ফ্ল্যাট পজিশনে যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এটি ইনঅ্যাক্টিভ থাকে। ফলে এটি পরে একই সাথে টাইপিং এবং মাউসিং দুটোই করা যাবে। মাউসটি খুব দ্রুত বাজারে আসছে।

comments

4 কমেন্টস

  1. অপেক্ষার প্রহর গুনতে শুরু করলাম কবে যে হাতের নাগালে পাব এরকম মাউস। ধন্যবাদ এরকম পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

  2. আমিও অপেক্ষা করছি। 😀
    ধন্যবাদ অনিক ভাই, আপনার কাছ থেকে আধুনিক প্রযুক্তির এমন আরও কিছু পোস্ট আশা করছি 🙂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.