“আমার দুই বন্ধুর একজনের নাম হচ্ছে আকাশ এবং অন্যজনের নাম রাতুল।রাতুল আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলো। আমরা ক্লাসের ফাকেঁ আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিতাম। ও সবার সাথে খুব মজা করতে পারতো। প্রায়ই আমরা বিকেলে একসাথে ঘুরতাম। রাতুল সবসময় নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করতো। আগামিকাল পরীক্ষা আছে, কোন সমস্যা নেই রাতে পড়ে নেব, এখন আড্ডা দেওয়া যাক।অন্যদিকে আকাশ খুবই ভাল ছাত্র সে সব সময়ই পরীক্ষায় প্রথম হয়।সারাদিন বই নিয়ে পড়ে থাকতো।ভালো নোট তৈরি করে পড়তো। আমরা মূলত ওর নোট পড়েই পরিক্ষা দিতাম।বাইরে খুব কম বের হতো।

………………………………………………..

আমরা প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করছি নিজেদেরকে। আমাদের প্রত্যেকেরই কম বেশি প্রতিভা আছে।অনেকেই খুব কম সময়ে তার প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে পারে আবার অনেকেই তার জীবনসীমার অনেকটা সময় পার করে ফেলেন এটাকে খুজেঁ পেতে।মূল বিষয়টি হচ্ছে একজন ব্যাক্তি তার প্রতিভাকে কতটা কাজে লাগাতে পারছে।

আমার প্রতিভা এবং আমার ভবিষ্যৎ

গতদিন আমার এক পরিচিত বড়ভায়ের সাথে কথা হচ্ছিলো, বর্তমানে তিনি একটা প্রতিষ্ঠানে এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্ট এর উপর কাজ করছেন। আমি বললাম, ভাইয়া আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটা শুরু হতে যাচ্ছে, যেটা আপনি ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন, আমার কি করা উচিৎ?কেমন ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন? উনি আমাকে বললেন “তাহলে তোমাকে আমার দুই বন্ধুর গল্প বলি।”

“একজনের নাম হচ্ছে আকাশ এবং অন্যজনের নাম রাতুল।রাতুল আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলো। আমরা ক্লাসের ফাকেঁ আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিতাম। ও সবার সাথে খুব মজা করতে পারতো। প্রায়ই আমরা বিকেলে একসাথে ঘুরতাম। রাতুল সবসময় নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করতো। আগামিকাল পরীক্ষা আছে, কোন সমস্যা নেই রাতে পড়ে নেব, এখন আড্ডা দেওয়া যাক।অন্যদিকে আকাশ খুবই ভাল ছাত্র সে সব সময়ই পরীক্ষায় প্রথম হয়।সারাদিন বই নিয়ে পড়ে থাকতো।ভালো নোট তৈরি করে পড়তো। আমরা মূলত ওর নোট পড়েই পরিক্ষা দিতাম।বাইরে খুব কম বের হতো।

আকাশ ক্লাসের সেরা ছাত্র হলেও প্যাকটিক্যাল ক্লাসে সবার নজর থাকতো রতুলের দিকে।প্যাকটিক্যাল ক্লাসে রাতুল যে গ্রুপে থাকতো তাদের প্রোগ্রাম আগে কাজ করতো।খুব ভালো ছাত্র না হলেও স্যারদের সাথে রাতুলের সম্পর্ক ছিলো বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। কোন একটি বিষয় স্যারকে বলতে হবে, অন্যরা যখন সাহস পায় না, রাতুল তা মজা করতে করতেই বলে ফেলতো।

রতুল প্রায়ই বিভিন্ন সায়েন্স ফেয়ারে অংশ নিতো, ওর ডেভলপ করা বেশ কিছু সফটওয়্যার পুরস্কার পেয়েছে। আমি যতদূর জানি ও প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত এ সব প্রজেক্টে কাজ করতো। আমাদের প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস টেস্ট থাকতো,এসব নিয়ে ওর তেমন কোন চিন্তাই ছিলো না। বন্ধুদের কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করে খুব কম লেখাপড়া করতো ।”

এখন রাতুল আর আমি একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি, আমাদের যে প্রজেক্টটা চলছে এটার টিম লিডার রাতুল। আকাশের সাথে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয়। ইতোমধ্যেই সে বেশ কিছু চাকড়ি ছেড়েছে।আমার মনে হয় তুমি বুঝে নিতে পেরেছো তোমার কি করা উচিৎ।

প্রিয় পাঠক বলতে পারেন, কেন আকাশ বেশ কিছু চাকড়ি ছেড়েছে? কে বেশি ভালো আছে রাতুল নাকি আকাশ? আকাশ কি কোন ভুল করেছে? যদি করে থাকে তহলে সেটা কি? রাতুল কি যা করেছে, একজন পরিপূর্ণ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে তার সবটাই ঠিক?

আসলে আকাশ এবং রাতুলের মধ্যে যদি প্রতিভা তুলনা করা হয়, তাহলে উভই কাছাকাছি থাকবে এবং এটা সত্যি যে আকাশ রাতুলের চেয়ে কোন একটা বিষয়ে অনেক বেশি জানেন। রতুলের মধ্যে যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি সেটা হচ্ছে, রাতুল তার শিক্ষা, তা প্রতিভাকে কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় সেটা খুব ভালোভাবেই জানেন।আমরা কি শিখছি?, কেন শিখছি?, বিভাবে এটাকে কাজে লাগাতে হবে? এই বিষয় গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারি তাহলে আমাদের প্রতিভা, আমাদেরকে একটা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতে পৌছানোর জন্য পথ তৈরি করে দিবে ।

………………………………………………………………………………..

আজ এখানেই শেষ করছি। একটা দীর্ঘ সময় পর আবার আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। সকলের জন্য শুভ কামনা রইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here