আমাদের শিক্ষা গ্রহণের দুইটি পদ্ধতি একটি গতানুগতিক একাডেমিক পদ্ধতি অন্যটি স্বশিক্ষা। একটিতে আপনাকে কোন না কোন প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভর্তি হতে হয়, তাদের দেখানো করিকুলাম এবং সিলেবাস অনুসরণ করতে হয়, পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হয়, এবং পরিক্ষা পাশের পর একটা সার্টিফিকেট প্রাপ্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়। এটাই হল একাডেমিক শিক্ষা পদ্ধতি।

অন্যটিতে আপনি নিজেকে স্বাধীন রাখতে পারেন। এখানে আপনার কোন বাধ্যবাধকতা নেই, নেই সার্টিফিকেট অর্জনের তাগিদ, এখানে বিশেষ কোন প্রতিষ্ঠানে আপনাকে ভর্তিও হতে হবে না, আপনার শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি কি হবে তাও আপনার নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। আপনার শিক্ষা গ্রহণ কখন শেষ হবে সবই আপনার নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

আমাদের একাডেমিক শিক্ষা এবং স্বশিক্ষা

নির্দিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান

m1একাডেমিক শিক্ষার জন্য আবশ্যক। স্বশিক্ষার ক্ষেত্রে থাকতেও পারে নাও পারে আবার একাধিক হতে পারে। ধরুন আপনি শখের বশে গান শিখতে চাচ্ছেন, এক্ষেত্রে আপনি একাধিক সংগীত বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে শিখতে পারেন, কোনটিতে পছন্দ না হলে অন্যটিতেও যেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি শেখার মাধ্যমে কতটা ভালভাবে দক্ষতার সাথে দ্রুত আয়ত্ব করতে পারলেন সেটাই মুখ্য। কিন্তু যদি আপনি সংগীতের উপর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করতে চান তাহলে আপনাকে কোন না কোন একটা প্রতিষ্ঠানে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যুক্ত থাকতে হবেই। এক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা যত বেশিই হোক না কেন।

n3নির্দিষ্ট সিলেবাস

একাডেমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট সিলেবাস অনুসরণ করে চলতে হয়। এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুশিলন শেষ করতে হয়। কখনো কখনো দেখা যায় এই সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত বেশ কিছু বিষয় থাকে যা আপনার একেবারেই অপছন্দের। কিন্তু আপনি চাইলেই সেগুলোকে বাদ দিতে পারেন না। আপনাকে পাশের জন্য অবশ্যই বিষয়গুলো গলধকরণ করতে হবে। স্বশিক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন সিলেবাস নেই। এক্ষেত্রে আপনাকে আপনার ইচ্ছা আগ্রহ এবং লক্ষ দ্বারা নির্ধারণ করতে হবে আপনি কি শিখবেন।

নির্দিষ্ট কিছু বই

n2একাডেমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের রেফারেন্স অনুযায়ী বা সিলেবাস অনুসরণ করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বই আপনাকে অবশ্যই সাথে রখতে হবে। পাশাপাশি অন্যন্য উৎস থেকে সাহায্য নেয়া যেতে পারে কিন্তু সেটাকে মুখ্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ কম। স্বশিক্ষার ক্ষেত্রে আপনার নির্বাচিত বিষয়ের উপর অসংখ্য উৎস এবং বই পুস্তক থাকতে পারে আপনার কাছে যে উৎসটি বা যে বইগুলো ভাল মনে হবে সেটাকেই মুখ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এখানে আপনার শেখাটাই মুখ্য।

সার্বিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় একজন শিক্ষার্থী একাডেমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সে সকল বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতি দ্বারা আবদ্ধ থাকেন। সকল কিছুর মধ্যেই যেন পরীক্ষা পাশ এবং সার্টিফিকেট অর্জনটাই মুখ্য হয়ে দাড়ায়। এ পদ্ধতিতে নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা, এমনটি অনেক ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা পর্যন্ত বাকরুদ্ধ হয়ে পরে। অন্যদিকে স্বশিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করে। কিন্তু এ পদ্ধতিতে নিজের প্রতি বিশ্বাস, নিয়মিত অনুশীলন, উপযুক্ত উৎস নির্বাচন এবং সঠিক দক্ষতা অর্জন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

comments

6 কমেন্টস

  1. দুটোরই দরকার আছে ………….ভালো লিখলেন…………কুমার ভাই

    • কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা লাভের জন্য কোনটা বেশি প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন? ধন্যবাদ রাসেল ভাই।

      • প্রকৃত শিক্ষা লাভের জন্য স্ব শিক্ষাটাই বেশি প্রয়োজন বলে মনে হয়।

        • ধন্যবাদ শম্পা পারভীন, লালন শাহ, কাজী নজরুল ইসলাম, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ সহ আমাদের পূজনীয় অনেকেই স্ব শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন।

  2. খুবেই সুন্দর ভাবে লিখার জন্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.