জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষশাস্ত্রঃ এক নয় মোটেও

রাশিফলের যে নতুন একটি দিনপঞ্জি আপনার হাতে এসেছে, তার ফলে আপনি হয়ত সম্পূর্ণ নতুন একটি রাশি পেয়েছেন। জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক যে সংগঠন রয়েছে তাদের থেকে পাওয়া তথ্যমতে জানা যায় যে আপনার ভাগ্যাকাশের রাশি পরিবর্তন হলেও হতে পারে। কিন্তু এ বিষয় নিয়ে নাসা(NASA) তাদের বক্তব্য সম্পূর্নরুপে পরিষ্কার করে দিয়েছে।

টাইম পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালের দিকের একটি রিপোর্টে দেখা যায় যে মিনেসোটার প্ল্যানেটারিয়াম সোসাইটি জানিয়েছে পৃথিবীর প্রতি চাঁদের যে মহাকর্ষিক আকর্ষন বল রয়েছে, তাতে তারকারাজির যে অবস্থান, সে অবস্থান থেকে তারা কিছুটা দূরেই সরে গিয়েছে। যেহেতু পৃথিবী তার কক্ষপথ পরিবর্তন করেছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানে যারা বিশ্বাস করেন কিংবা পত্রিকার পাতা খুলে যাদের চোখ প্রথমেই রাশিফলের দিকে যায় তাদের জন্য রয়েছে একটি নতুন খবর। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই নিদর্শনগুলোর ফলে পশ্চিমাকাশে যে রাশি দেখা যায়, তা একমাস পেছনে চলে গিয়েছে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে যে, যারা পত্রিকায় নিজেদের রাশি কন্যা পড়ে ফেলেছেন, তারা নিজেরাও হয়ত জানেন না তাদের রাশি আসলে কন্যা নয়। হয়ে গিয়েছে সিংহ। এছাড়াও নভেম্বরের ২৯ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ১৭ তারিখের মাঝে যাদের জন্ম তারা পেয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন একটি রাশি। এর নাম দেয়া হয়েছে অফিউকাস।

নাসা বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই বাচ্চাদের জন্মদিনের ওপর ভিত্তি করে তাদের বক্তব্য নিয়েছে। তারা তাদের জন্মমাসের ওপর কতটা নির্ভর করে এবং রাশিচিহ্নের ওপর কতটা বিশ্বাস করে। এই সমীক্ষায় তারা জানিয়েছে যে পৃথিবীর প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষের রাশিচিহ্ন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু নাসা জানিয়েছে যে জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষশাস্ত্র এক জিনিস নয়। কারণ, জ্যোতির্বিদ্যা হচ্ছে মহাকাশ সম্পর্কিত বিজ্ঞান। আর শাস্ত্রের সাথে বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নেই। যদি কেউ খুব বিশ্বাস করে ফেলেন যে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, নাসা তাদেরকে বলেছে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার ক্যালেন্ডারের কথা। তাদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল ১৩টি। সে অনুযায়ী নতুন একটি তারকা এসেছে এই অফিউকাস। তারা এও বলেছে যে তারা কোন চিহ্ন পরিবর্তন করে নি। এটি একটি সরল সহজ গণিত।

দেখা যাচ্ছে যে, আপনার ভাগ্য নিয়ে নাসা খুব একটা চিন্তিত নয় তাহলে!

 

সূত্রঃ বিবিসি নিউজ

 

 

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.