মোটামুটি আমারা সবাই কম্পিউটার ব্যবহার করি। প্রয়োজনে কেউ ল্যাপটপ আবার কেউ ডেক্সটপ কম্পিউটার চালায়। বর্তমানে কম্পিউটারের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হল ক্ষতিকর ভাইরাস। আর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হ্যাকার। একটু অসাবধানতার কারনে কখন আপনার পিসিতে ভাইরাস ধুকে পরবে বা হ্যাক হয়ে যাবে তা আপনি ঠিকও পাবেন না।

আপনার পিসিকে হ্যাক করার সহজ একটি উপায়, ফেসবুকে কেউ আপনাকে সুন্দর একটি ম্যাসেজ দিবে আর বলবে এই লিংকে গেলে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন। আপনি যখনি ঐ লিংকে ক্লিক করবেন তখনি আপনার পিসির নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে সেই হ্যাকারের হাতে।

how-to-hack-yahoo-account-632x350

কিছু দিন একজন বিশিষ্ট হ্যাকারের একটি ইন্টারভিউ পড়ছিলাম। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, কিভাবে নিজের পিসিকে ক্ষতিকর ভাইরাস ও হ্যাকারদের কবল থেকে রক্ষা করা যায়? সেদিন তিনি কিছু সাজেশন দিয়েছিল আমাদের, চলুন শোনা যাক-

১। অপারেটিং সিস্টেম- আমরা এক একজন এক এক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পছন্দ করি। যেমন কেউ, উইন্ডোজ ৭ বা ৮ চালায় আবার কেউ ম্যাক ওএস তো আবার কেউ উবুন্টু। চেষ্টা করবেন সবথেকে সহজ বা আপনার কাছে সবচেয়ে পছন্দসই অপারেটিং সিস্টেম টি বেছে নিতে। আরও একটি জরুরি বিষয় হল আপডেট, অপারেটিং সিস্টেমটি নিয়মিত আপডেট রাখার চেষ্টা করবেন। এবং খেয়াল রাখবেন সিকিউরিটি আপডেট গুলো নিয়মিত হচ্ছে কিনা। (আমি কিন্তু কোনরকম উইন্ডোজ আপডেট ব্যতিত ভাল একটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করি )

২। ওয়েব ব্রাউজার- ভাইরাস ও হ্যাক প্রসঙ্গে ওয়েব ব্রাউজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারন বেশিরভাগ ভাইরাসই কোন না কোন ওয়েবসাইট থেকে আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করবে সাথে সাথে হ্যাকাররা ওয়েবেই আপনার পিসিকে হ্যাক করার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে আমি সবাইকে গুগল ক্রোম ব্রাইজারটি ব্যাবহারের উপদেশ দিবো। ইতিমধ্যে গুগল তাদের ব্রাউজারে নতুন একটি ফিচার যোগ করেছে। সেটি হল, আপনি যখন ব্রাউজারটি ওপেন করে কোন ওয়েবসাইট সার্ফ করতে থাকবেন আর তখন যদি এমন কোন লিংকে ক্লিক করেন যেখানে বা যে লিংকে ভাইরাস থাকতে পারে। তখন ক্রোম নিজে থেকেই আপনাকে আর উক্ত লিংকে প্রবেশ করতে দিবে না।

৩। পাসওয়ার্ড- যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। সাথে সাথে আপনার ইন্টারনেট মোডেম, ওয়াইফাই রাউটার ইত্যাদিতে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন সেগুলো যেন অবশ্যই খুব শক্তিশালী হয় যেমন, (hb%$MV)@!VL##) ।

৪। বিশ্বস্ত সূত্র ব্যবহার করুন- যেকোনো ধরনের ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সূত্র ব্যবহার করুন। যেমন, আমরা যখন কোন প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা গেমস ডাউনলোড করি তখন যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট বা গুগল সার্চ করে যে রেজাল্ট পাই সেখান থেকে ডাউনলোড করে নেই। এটা আমাদের অন্যতম একটি ভুল। অনেক সময় এমন হয়ম, .exe ফাইলের ভেতরে লুকনো থাকে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার যেগুলো অনাবরত আপনাকে ট্র্যাক করবে আর তার অ্যাডমিন কে আপনার বিস্তারিত তথ্য দিতে থাকবে।

এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে যেকোনো ডাউনলোডের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সূত্র ব্যবহার করুন। যেমন filehippo, softpedia, download, snapfiles, tucows, fileplanet, betanews, sourceforge ইত্যাদি।

৫। ভালমানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন- আমরা অনেকেই পিসিতে কোন এন্টিভাইরাস ব্যবহার করিনা।  কেন? কারন শধুই আমাদের অলসতা। অনেকেই লিমিটেড নেট লাইন ব্যবহার করে আর এন্টিভাইরাস ব্যবহার করলে সেটা নিয়মিত আপডেট দিতে হয়।

এই ভুলটি আর করবেন না, কারন আপনার পিসিতে অবশ্যই কোন না কোন স্পর্শকাতর ফাইল বা বিষয় আছে যেগুলো অন্যর হাতে পড়লে সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত এন্টিভাইরাস আপডেট দিন।

৬। স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার- ভালমানের একটি এন্টি স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিশ্চিত থাকতে পারবেন যেকোনো ধরনের স্পাই প্রবলেম থেকে। এক্ষেত্রে আমি আপনাদের Spybot  ব্যবহার করার সাজেশন দিবো।

আজকের মতো এখানেই সমাপ্তি করছি। তবে খুব সহসা আবার ফিরে আসবো নতুন কোন আপডেট নিয়ে (ইনশাল্লাহ) সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন আসা করি।

ও আর একটা কথা, আপনার মনে যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত ঘুরপাক খায় তবে সেটা আমাদের কমেন্ট বক্সে যানাতে ভুলবেন না যেন।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.