ইলেকট্রনিক্স খুবই উপভগ্য একটি বিজ্ঞান। বৈজ্ঞানিক গবেষণার অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং কর্ম সম্পাদন করতে প্রয়োজন হয়, কিন্তু ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি সেরকম ব্যয়বহুল নয়। সামান্য কয়েকশত টাকা খরচ করেই আপনি নিজে নিজেই বেশ কিছু এডভান্স এবং আকর্ষণীয় প্রজেক্ট তৈরি করতে পারেন, যা অন্যন্য ক্ষেত্রে অসম্ভব হলেও ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রে খুবই সম্ভব। মাত্র কয়েক হাজার টাকা খরচ করে নিজের চির চেনা ঘরটিকেই রূপান্তরিত করতে পারেন একটা ইলেকট্রনিক্স ল্যাবে, এজন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ছোট কার্য সম্পাদনের টেবিল বা ওয়ার্ক এরিয়া, কিছু যন্ত্রপাতি, কিছু পর্যবেক্ষণ ডিভাইস এবং রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা ।

কার্য সম্পাদনের টেবিল বা ওয়ার্ক এরিয়া

m1যে কোন কার্য সম্পাদনের জন্যই একটা স্থানের প্রয়োজন। নিজস্ব ইলেকট্রনিক্স ল্যাবের জন্য একটা মাঝারী আকৃতির কাঠের টেবিল ব্যবহার করাটা সবচেয়ে উপযোগী। অনেকে লোহা বা প্লাস্টিকের টেবিল ব্যবহারের কথা চিন্তা করতে পারেন, কিন্তু সেটা করাটা ঠিক হবে না। ইলেকট্রনিক্স ল্যবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যন্ত্রটি হল সোল্ডারিং আইরন যা উত্তপ্ত করে কাজ সম্পাদন করা হয়, তাই প্লাস্টিকের টেবিল ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যদিকে লোহা তাপ এবং বিদ্যুত পরিবাহী হওয়ায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সার্কিট নিয়ে কাজ করতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। যদি আপনার কাছে আগে থেকেই একটি লোহা বা প্লাস্টিকের টেবিল থেকে থাকে তাহলে আর নতুন করে কাঠের টেবিল তৈরি করার প্রয়োজন নেই ঐ টেবিলটার উপর একটা কাঠের খন্ড ব্যবহার করুন।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ

m2ইলেকট্রনিক্স বিষয়ক কার্যসম্পাদনের জন্য বিভিন্ন ধরণের কার্য সম্পাদন করতে হয় যেমন সোল্ডারিং, ডিসোল্ডারিং, সার্কিট এনালাইসিস, ফল্ট ফাইন্ডিং, লে-আউট ডিজাইন, ডিভাইস প্যাকেজিং, ইত্যাদি। এ সকল কার্য সফলভাবে এবং সহজে সম্পাদনের জন্য বেশ কিছু টুলস ব্যবহার করা হয় যেমন Soldering iron and solder, Soldering gun, Desoldering pump, Solderless breadboard, Utility knife, Slip-joint pliers, Adjustable-joint pliers, Hand drill,  Screwdrivers, Needle-nose pliers, Jumper wires, Wire stripping pliers, Component box ইত্যাদি । এ সম্পর্কে পরবর্তীতে আরো আলোচনা করা যাবে।

পর্যবেক্ষণ ডিভাইস

m3ইলেকট্রনিক্সে সার্কিট এনালাইসিস এবং ফল্ট ফাইন্ডিং এর জন্য বিভিন্ন ধরণের মিটারিং এবং মেজারিং ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মিটারিং ইন্সট্রুমেন্টটি হচ্ছে মাল্টিমিটার। মোটামটি ভাবে একটা মাল্টিমিটার দিয়েই পর্যবেক্ষণের ৭০% কাজ করা যায়। এ ছাড়াও আরো কিছু ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেমন ওসিলোস্কোপ, ফ্রিকোয়েন্সি কাউন্টার, 7 সেগমেন্ট ডিসপ্লে, সেনসিটিভ ভোল্টেজ এন্ড অডিও ডিটেক্টর ইত্যাদি।

রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই

ইলেকট্রনিক্স ল্যবের অপরিহার্য অংশটি হল রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই। বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সমূহ বিভিন্ন ধরণের পাওয়ার কতৃক পরিচালিত হয়। এজন্য সার্কিট এনালাইসিসে ভেরিয়েবল m4রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন হয়। কম খরচে ভেরিয়েবল রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য 3v-12v এডাপটার এবং ভোল্টেজ রেগুলেটর আইসি ব্যবহার করা যেতে পারে, তাছাড়া বাজারে বর্তমানে কম খরচে ভেরিয়েবল রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট পাওয়া যায়।

এছাড়াও আপনার পারসনাল কম্পিউটারটিও আপনার ল্যাবের একটা অপরিহার্য উপাদান। এর মাধ্যমে আপনি লে-আউট ডিজাইন, সার্কিট সিমুলেশন, মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং ইত্যাদি কাজ সহজেই করে নিতে পারবেন।

………………………………………………………………………………..

আজ এ পর্যন্তই। সবার জন্য শুভকামনা রইল ।

comments

10 কমেন্টস

  1. আমার খুব হচ্ছে আমার রুমকে ইলেকট্রনিক্স ল্যাব বানানোর আপনার পোস্টটি কাজে লাগবে………ধন্যবাদ

  2. অসীম ভাই আমি আপনার এই ধরেনর পোষ্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চাই ।:smile:

  3. পোষ্ট টি অনেক কাছে লাগবে। অনেক ধন্যবাদ এ রকম একটা পোষ্ট লেখার জন্য

  4. পোষ্ট এর জন্যে ধন্যবাদ। আমিও ইলেক্ট্রনিক্স এর ব্যাপার এ খুবই আগ্রহী। ৬ বছর আগে ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে অল্পসল্প ঘাটাঘটি করতাম।

  5. দাদা আপনার সাথে কি ভাবে যোগাযোগ করা যায়???

  6. দাদা একটা অসিলোস্কোপ কিনতে চাই কেমন দাম পরবে কোনটা ভাল এবং কোথা থেকে কিনবো???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.