ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নুড়ির সাথে প্রাণীর মুখ আলাদা করে চেনা যায় কি?

বেঁচে থাকবার জন্য মানুষের ছদ্মবেশের কোন প্রয়োজন হয় না কিন্তু অন্যান্য প্রাণীর হয়ে থাকে। প্রকৃতি তাদের একটি অনন্য ক্ষমতা দিয়েছে যার মাধ্যমে তারা বিপদসংকুল পরিবেশে লড়াই করে টিকে থাকতে পারে। অনেক সময় নিজের চাইতে ক্ষমতাধর প্রাণীর হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা প্রকৃতির সাথে মিশে যায়।
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের জুওলজিস্ট জোয়ানা হল বলেন, “এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যাদের পরিবেশের ওপর করে থাকতে হয় যে তারা কেমন করে বেঁচে থাকবে।”

গাছের কান্ডের সাথে ড্রাকো ইন্ডেশিনেনসিস। চিনতে পারেন?
গাছের কান্ডের সাথে ড্রাকো ইন্ডেশিনেনসিস। চিনতে পারেন?

কেবল প্রাণীদের হাত থেকে নয়, মানুষের হাত থেকে বাঁচার জন্যও তাদেরকে ছদ্মবেশের শরণাপন্ন হতে হয়।
যেমনটা ধরা যাক অক্টোপাসের ক্ষেত্রে। বিভিন্ন ঋতুতে অক্টোপাস তার পারিপার্শ্বিকতা সাপেক্ষে নিজেকে বদলে ফেলে। মুখের ত্বকে ক্রোমাটোফোর নামক পিগমেন্ট থাকার কারণে তারা নিজেদের মাঝে আত্মরক্ষার জন্য এক ধরণের উপাদান নিয়ে আসে। কোন কোন প্রাণী রয়েছে যারা পরিবেশ অনুযায়ী প্রায় ৩০-৫০ রকম ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে।

প্রবালের সাথে মিশে যেতে পারে হার্লেকুইন ফিশ
    প্রবালের সাথে মিশে যেতে পারে হার্লেকুইন ফিশ

আরেকটা কারণ হচ্ছে কাউন্টারশেডিং। কিছু কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের পিঠ সূর্যের আলোয় চকচক করে থাকে। জলে কিংবা স্থলে, কোন স্থানেই তারা নিজেদের অবস্থান লুকাতে পারে না, ফলে সহজ শিকারে পরিণত হয়। এই ধরণের প্রাণীদের জন্য প্রকৃতি স্বাভাবিক নিয়মেই ছদ্মবেশ নেবার ব্যবস্থা করে নিয়েছে। এমন একটি প্রাণী হচ্ছে আর্মাডিলো।

 

এই পতঙ্গটির কোথাই ধরুন। দেখলে কে বলবে আদৌ এটি কোন পাতা নয়?
এই পতঙ্গটির কোথাই ধরুন। দেখলে কে বলবে আদৌ এটি কোন পাতা নয়?

 

এছাড়াও কিছু কিছু প্রাণী রয়েছে যারা গাছে কিংবা মাটিতে বাস করে। তাদেরও কিন্তু শত্রুর কমতি নেই। এমন সব প্রানীর শরীরের রঙই এমন যে তাদের আলাদা করে ছদ্মবেশ নিতে হয় না।

সূত্রঃ popular science

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.