পদার্থ বিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলেন “তোমরা নিশ্চই জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম শুনেছ, আচ্ছা বলতো তার জন্ম কত সালে?” ৩৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাত উঠল মাত্র ৪-৫ জনের । শিক্ষক ১ম জনকে উত্তর বলতে বললেন, উত্তর ১৮৯৭ সালে; ২য় জন ১৮৮৯ সালে; ৩য় জন ১৮৭৯ সালে। তাহলে এই শিক্ষার্থীদের কি বিজ্ঞান পাঠের যোগ্যতা আছে না নেই আপনার মতামত কি?

………………………………………………………………………………………………….

শিশুকাল মানব জীবনের একটি বিশেষ সময়, যখন মানুষ সবচেয়ে বেশি কৌতুহলী থাকে। এই সময়টা মানুষের সমগ্র জীবনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। আজকের শিশুটি কতটা বুদ্ধিদীপ্ত হবে, কতটা স্মার্ট হবে, কতটা সৃজনশীল হবে, তার আচার আচরণ কেমন হবে, তার কৌতুহলী মনটা কতটা প্রখর হবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কতটা আগ্রহী হবে এসব কিছুই তার শিশুকালের পরিবেশের উপর নির্ভর করে। আমি আমার বেশ কিছু লেখায় শিশুদের জন্য পরিকল্পিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকরণ দ্বারা সজ্জিত উপযুক্ত পরিবেশের কথা বলেছি। যে পরিবেশ শিশুকে শুধুমাত্র তার দৈহ্যিক বিকাশেই সাহায্য করবে না সাথে শিশুর শিক্ষা এবং প্রকৃতিকভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিখতেও সাহায্য করবে ।

teacher--ab1সচরাচর দেখা যায় একটা বয়সে এসে শিশুদেরকে হঠাৎ করে গণিত এবং বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য বল প্রয়োগ করা হয়। আমাদের শিক্ষক মহাশয়েরা শিশু-কিশোরদের হাতে ধরিয়ে দেন গনিত, পদার্থ বিজ্ঞানের জটিল জটিল সুত্রের একটা বড় রকমের তালিকা, যা মুখস্থ না হলে নাকি গণিত বা বিজ্ঞান কোনটাই শেখা যাবে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, সিলেবাস ঠিক এরকম ভাবেই প্রতিষ্ঠিত। শিশুরা এই বড় তালিকা দেখেই ভয় পেয়ে যায়।

  • তাহলে তাদের স্বাভাবিক মানষিক বিকাশ, সৃজনশীলতার বিকাশ, মুক্তচিন্তার বিকাশ কিভাবে হবে?
  • তাহলে আজকের কৌতুহলী শিশুটি কিভাবে ভবিষ্যতের একজন সফল বিজ্ঞানী হবে?

এজন্য আমাদেরকে গতানুগতির বাইরে বেরিয়ে এসে শিশুদের কৌতুহলী মনকে মায়ের কোল থেকেই কাজে লাগাতে হবে।

teacher2পদার্থ বিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলেন “তোমরা নিশ্চই জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম শুনেছ, আচ্ছা বলতো তার জন্ম কত সালে?” ৩৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাত উঠল মাত্র ৪-৫ জনের । শিক্ষক ১ম জনকে উত্তর বলতে বললেন, উত্তর ১৮৯৭ সালে; ২য় জন ১৮৮৯ সালে; ৩য় জন ১৮৭৯ সালে। তাহলে এই শিক্ষার্থীদের কি বিজ্ঞান পাঠের যোগ্যতা আছে না নেই আপনার মতামত কি? নিশ্চয় বলবেন শুধুমাত্র একজন ছাড়া ঐ শিক্ষার্থীদের কারোরই বিজ্ঞান পাঠের যোগ্যতা নেই। আসলে আমাদের (বিশেষ করে আমার নিজের) অবস্থাও কিন্তু ঐ শিক্ষার্থীদের মতই। তাহলে আমাদেরকে কি বিজ্ঞান পাঠের যোগ্যতা অর্জনের জন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জন্ম তারিখ সদা সর্বদা মুখস্ত রাখতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুজব নিবন্ধটির শেষে।

আজ এ পর্যন্তই । আজকের কৌতুহলী শিশুটি হবে ভবিষ্যতের একজন সফল বিজ্ঞানী (পর্ব-২) এ শিশুদের কৌতুহলী মনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ কিভাবে সৃষ্টি করতে হবে উপস্থাপনের চেষ্টা করব।

comments

8 কমেন্টস

    • আমাদের বাবা মার সন্তানদের শিশুকাল অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। কিন্তু যে সকল বাবা মা এখনো সুপ্ত অথবা যে সকল বাবা-মায়ের সন্তানদের শিশুকাল এখনো পেরিয়ে যায়নি তাদের চিন্তা চেতনা পরিকল্পনায় বিষয়গুলো থাকাটা প্রয়োজন বলে মনে করি।
      ধন্যবাদ হাশেম ভাই।

  1. আমাদের দেশে যেসব শিশু একটু বেশি কৌতুহলী, তাদের এই জন্য অনেক সময় তিরস্কার করা হয় এবং কৌতুহল দমনের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয় যা খুবই দুঃখজনক।

    • সত্যিই দুঃখজনক। এই কৌতুহলকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটিই উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি পর্ব দুইতে। ধন্যবাদ ইমতিয়াজ ভাই।

  2. ভালই বলেছেন
    সকল বাব-মাকেই সন্তানদের উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করা প্রয়োজন

    ফিনিশিঙ্গে মনে হয় পর্ব দুইয়ের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিলো,

    • ধন্যবাদ লাকি এফএম,
      “সকল বাব-মাকেই সন্তানদের উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করা প্রয়োজন” শুধুমাত্র উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করলেই হবে না সেই পরিবেশের উপযুক্ত প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে, আর সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

      “ফিনিশিঙ্গে মনে হয় পর্ব দুইয়ের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিলো” সেটাতো করা হয়েছে।
      http://www.bigganprojukti.com/post-id/5689 তে পর্ব দুই দেখুন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.