ছোট বেলায় আমরা নানী দাদীদের কাছ থেকে আগ্রহ সহকারে ভুত-পেত, রাক্ষস, পাতালপুরী আর রূপকথার রাজকুমার-রাজকুমারীর গল্প শুনে বড় হয়েছি। যেগুলো আমাদেরকে অনেক বেশি অনন্দ দিত । কিন্তু অন্যদিক একটা ক্ষতিও কিন্তু করেছে। আমরা যখন এ ধরণের গল্প ছোট বেলায় শুনতাম, তখন এগুলোকে সত্য বলেই মনে করতাম । যা আমাদের মনে বিশেষ কিছু আকৃতি তৈরি করত।

…………………………………………………………………………………………………….

আজকের কৌতুহলী শিশুটি হবে ভবিষ্যতের একজন সফল বিজ্ঞানী (পর্ব-২) এ শিশুদের কৌতুহলী মনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ কিভাবে সৃষ্টি করতে হবে তার কিছু অংশ উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি আজ এর বাকী অংশ উপস্থাপন করব।

44

  • ফুল,ফুলের টব,সৌখিন এবং ঔষধি গাছ : শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃতিপ্রেমী হয়। তারা ফুল , সুন্দর সুন্দর রং বেরঙের পাতা, ছোট আকৃতির বৃক্ষ পছন্দ করে। বারান্দায় অথবা ঘরের সামনে এধরণের কিছু ফুলের বা গাছের টব রাখা হলে এবং সে গাছ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রাখা হলে শিশুরা বড় হওয়ার সাথে সাথে এ গাছগুলো সম্পর্কে ধারণা অর্জন করবে, এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবে, পরিচর্যা এবং গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • পোশাক পরিচ্ছদ এবং খেলনা: শিশুদের পোশার পরিচ্ছেদও হতে পারে তার শেখার একটা মজার কৌশল।pic1 সাধারণত একটি শিশুর বয়স ১ বছর পার হওয়ার সাথে সাথে তার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেখানে ১ বছর বয়সের একটি শিশুর শব্দ ধারণ ক্ষমতা থাকে মাত্র ৬০-১২০ টার মত সেখানে তা ২ বছর বয়সে পৌছায় কয়েক হাজারে। শিশুরা রঙিন জিনিস খুব পছন্দ করে তাই শিশুদের পোশাক পরিচ্ছেদে বিভিন্ন রংয়ের সমন্বয় থাকলে তারা খুব খুশি হয় যা তার মানষিক বিকাশে সাহায্য করে। এসব পোশাকে বর্ণমালার অক্ষর স্পষ্ট এবং উজ্জল রংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা গেলে এর জ্যমিতিক আকৃতি শিশুদের মনের মধ্যে স্থান করে নিতে পারে। ঠিক খেলনার ক্ষেত্রেও একই কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। বিশেষকরে বিভিন্ন রং বেরংঙের এবং বিভিন্ন আকৃতির ব্লক নিয়ে খেলতে শিশুরা পছন্দ করে এ গুলোতে এ কৌশলটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • অডিও, ভিডিও, কার্টুন এবং গেমস: শিশুরা গান শুনতে , কার্টুন দেখতে , এবং উপযুক্ত বয়সে গেমস খেলতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে বাবা মাকে বেশ সচেতন থাকতে হয়। এগুলো শিশুদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত ভাল নয়।ggসাধারণত দেখা যায় শিশুদেরকে এমন কিছু কার্টুন দেখানো হয় যা সম্পূর্ণরূপে কাল্পনিক বস্তবতার সাথে কোন মিল নেই এবং সুধুমাত্র বিনোদন ছারা আর কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। এ ধরণের বিনোদন পরিহার করা উচিত। এগুলো মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে । কোমল মনের স্বাভাবিকতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর পরিবর্তে বাস্তবতার কাছাকাছি শিক্ষাবিষয়ক, ভিডিও বা কার্টুন শিশুদেরকে দেখানো যেতে পারে। ভিডিওর মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক ছোট ছোট প্রজেক্ট, প্রাণীজগত, পৃথিবী-গ্রহ-উপগ্রহ সম্পর্কিত বিষয় উপস্থাপন করা যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ একটি ব্যটারী কিভাবে কাজ করে, এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয় এধরণের বিষয় এনিমেশনের মাধ্যমে শেখানো যেতে পারে।
  • গল্প বলা: ছোট বেলায় আমরা নানী দাদীদের কাছ থেকে আগ্রহ সহকারে ভুত-পেত, রাক্ষস, পাতালপুরী আর রূপকথার রাজকুমার-রাজকুমারীর গল্প শুনে শুনে বড় হয়েছি। যেগুলো আমাদেরকে অনেক বেশি অনন্দ দিত । কিন্তু অন্যদিক একটা ক্ষতিও কিন্তু করেছে। আমরা যখন এ ধরণের গল্প ছোট বেলায় শুনতাম তখন এগুলোকে সত্য বলেই মনে করতাম । যা আমাদের মনে বিশেষ কিছু আকৃতি তৈরি করত। যেমন রূপকথার রাজকুমার-রাজকুমারী, পঙ্খিরাজ ঘোড়া, ভুত-পেত, রাক্ষস ইত্যাদি। যা যে কোন শিশুর মনে ভয়ের সঞ্চার করতে পারে, শিশুটি এসব বিষয়ে অতিরিক্ত কৌতুহলী হয়ে পরতে পারে যা তার বাস্তব জগতের শেখার বিষয় গুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর বিপরীতে তাদেরকে টমাস আলভা এডিসনের ডিমে তা দেয়ার গল্প বা নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার গল্প শুনাতে পারি । যা শিশুদেরকে বাস্তব জগত সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেবে, শিশুদেরকে বিজ্ঞান মনস্ক করে তুলবে ।

বিজ্ঞানকে সঙ্গী করে আমাদের শিশুরাও এগিয়ে যাবে। আর আমাদেরকে সেই পথ তৈরি করে দিতে হবে। আমাদের তৈরি করা পথ ধরে দূরন্ত পায়ে তারা এগিয়ে যাবে সুনিশ্চিৎ সমৃদ্ধির দিকে। আমাদের শিশুদের সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় শেষ করছি।

comments

9 কমেন্টস

  1. বেশ কাজের পোষ্ট ছিলো এটা @ অসীম ভাই
    @ সানি ভাই, এখন তো শহরের অনেক বাবা মাই এটা খেয়াল রাখে, আগে যার ফুটো কড়িও পাওয়া যেতনা

  2. ভাই বিয়ে করি নাই বভিষ্যতে কাজে লাগবে।পোষ্ঠি দারুন ধন্যবাদ।

    • রাসেল ভাই ধন্যবাদ,
      আসলে আপনি বিয়ে না করলেও আপনার পরিবারের কোন সদস্য,আপনার বন্ধু , প্রতিবেশী অথবা আপনার কোন নিকট অত্নীয়ের ছেলেমেয়ে সবাই কিন্তু এদেশেরই শিশু। তাই আমাদের সকলের জন্যই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিৎ, যেন আমাদের একটু সচেতনতার অভাবে আমাদের শিশুরা অনেকখানি পিছিয়ে না পরে।

      সবাইকে ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.