সময়ের তালে তালে পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিওর পরিবর্তে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ইমেইল এমনকি শর্ট মেইল সার্ভিস [এসএমএস] কে বেছে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসমএমএস মার্কেটিংয়ের এই পদ্ধতিটি যখন মাত্রাতিরুক্ত হয়ে পড়ে তখন স্প্যামিং হিসেবেই বিবেচিত হয়। বিরক্ত হয় সেলফোন ব্যবহারকারী।

সম্প্রতি এই এসএমএস স্প্যামিয়ের বিষয়টি প্রযুক্তিবিশ্বে আলোচনায় এসেছে। কারণটি হলো, বিশ্বের বৃহত্তম সেলফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নকিয়াকে এসএমএস স্প্যামিংয়ের কারণে জরিমানা করেছে অষ্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা। একইসাথে ফিনল্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠানকে এসএমএস মার্কেটিংয়ের পদ্ধতিটিকে বদলে ফেলার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

অষ্ট্রেলিয়ার কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া অথোরিটি সম্প্রতি আবিষ্কার করে যে, কোনো প্রকার গ্রাহক নিবন্ধন ছাড়াই নকিয়া গ্রাহকদেরকে তাদের সেলফোনের সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করে। এমনকি যথাযথ কর্তৃপক্ষ যাতে বুঝতে না পারে তার জন্য মাঝে মাঝে সেলফোন ব্যবহারের বিভিন্ন টিপস সম্পর্কিত এসএমএস প্রদান করে। যেটি স্থানীয় আইনে অবৈধ।
সংস্থাটি একটি বিবৃতিতে আরো জানায়, নকিয়া এসএমএস মার্কেটিংয়ে জড়িত চাকরিজীবিদের আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষন দিতে সম্মত হয়েছে। একইসাথে তারা ৫৭ হাজার ৭৫০ ডলার জরিমানা দিবে বলে জানিয়েছে। বিবৃতিতে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া অথোরিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিচার্ড বিন বলেন, এসএমএস মার্কেটিংয়ে জড়িত থাকা কিছু কিছু ব্যবসা বৈধ নয়। ইমেইল মার্কেটিং ও এসএমএম মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োজ্য। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত এসএমএম বা ইমেইল পাঠানো যাবে না। একই আইন ছোট, বড় সকল ব্যবসায় প্রয়োজ্য।

স্থানীয় বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসসহ সেলফোন মার্কেটিংয়ে এসএমএস মার্কেটিং একটি আশানুরুপ বিজ্ঞাপন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে যেকোনো বিষয় সহজেই সব শ্রেনীর মানুষের কাছে পৌছে দেয়া যায়। কিন্তু এতে গ্রাহকদের আগ্রহ কম বা সাড়া পাওয়ার পরিমান আশানুরুপ নয়। অষ্ট্রেলিয়ার এই নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এমএমএস মার্কেটিংকে অধিকাংশ গ্রাহক স্প্যাম হিসেবে বিবেচিত করেন এবং বিরক্ত হন।

comments

2 কমেন্টস

  1. তথ্য প্রযুক্তি বিশ্ব যত সামনে আগাচ্ছে কিছূ মানুষের চিন্তা চেতনা ভালর দিকে না যেয়ে কিভাবে অন্যকে বিব্রত করা যায় নিজের স্বার্থের জন্য এই চিন্তায় ব্যস্ত! দেশীয় সীম অপারেটররাও কিন্তু কম নয়!!!

    এরই কি নাম প্রযুক্তি! যা মানুষের বিরক্তির কারন হতে চলছে! 🙁

    • সত্যই নিজের স্বার্থের চিন্তায় ব্যস্ত সবাই! নিজের লাভের জন্য সব রকম কাজ করে চলেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এটা প্রযুক্তির দোষ নয়, এর জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের মানসিকতা, ধ্যান-ধারনা। 🙁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.