মানুষের মস্তিষ্কের ভেতর একটি ডিজিটাল চিপ স্থাপনের মাধ্যমে মানব মস্তিষ্ককের স্মৃতি ধারণের ক্ষমতাকে অতিমানবীয় পর্যায়ে উন্নীত করা হবে।

কথাটি শুনতে অনেকটা সায়েন্স ফিকশন সিনেমার গল্পের মতো মনে হলেও সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক ড. থিওডোর বার্জার এমনই একটি ডিজিটাল চিপ বানানোর পরিকল্পনা করছেন এবং তিনি ইতিমধ্যে ইঁদুরের ওপর এই আধুনিক প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সফলতাও পেয়েছেন।

এই অগ্রগামী স্নায়ুবিজ্ঞানী এখন মানুষের ওপর এই আধুনিক প্রযুক্তিটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি বিগত ২০ বছর যাবত অ্যালজাইমার অসুখ নিয়ে গবেষণা করার জন্য মস্তিষ্কের ভেতর ব্যবহার উপযোগী ডিভাইস তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন যা মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক সংকেতকে অনুকরণ করতে পারবে।

এই নব পরিকল্পিত সফটওয়্যারটি সামগ্রিকভাবে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তিকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিশক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে। স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তিকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিশক্তিতে রূপান্তর করতে এক্ষেত্রে মস্তিষ্ক একটি অনন্য কোডে বৈদ্যুতিক সংকেতের একটি প্যাটার্ন পাঠাবে।

এ পর্যন্ত মস্তিষ্কের এ চিপটি বানর এবং ইঁদুর- উভয়ের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গেছে যে, তাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ড. বার্জার এখন ব্রায়ান জনসন নামক একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সঙ্গে মিলে ‘কার্নেল’ নামক নতুন একটি উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছেন, যা মানুষের মস্তিষ্কের ইমপ্লান্ট ডিভাইসগুলোর ধরন নিয়ে কাজ করবে।

তারা এখন হাসপাতালে মৃগী রোগীদের ওপর এ প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালাচ্ছেন।

ড বার্জার বলেন, ‘আমরা এখন মানুষের মধ্যে এর পরীক্ষা চালাচ্ছি এবং প্রাথমিকভাবে ভালো ফলাফলই পাচ্ছি। আমরা এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’

comments

কোন কমেন্ট নেই

LEAVE A REPLY

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.